রায়পুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

রায়পুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ইউপি চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তাকে অনাস্থা ঘোষণা করে জেলা প্রশাসকের নিকট দরখাস্ত দিয়েছে পরিষদের সদস্যরা একত্রিত হয়ে।
ঘটনাটি ঘটে রায়পুর উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নে।

জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়,পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বেপারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

অভিযোগ রয়েছে তিনি বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ, ভিজিএফ, ভিজিডি, এলজিএসপি প্রকল্প, ৪০ দিনের কর্মসূচি, হত দরিদ্রের বরাদ্দ, কাবিখা প্রকল্প ও ওয়ান পার্সেন্ট’সহ প্রত্যেক খাতে অনিয়ম করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে।

অধিকাংশ পরিষদ সদস্য জানিয়েছে, আমরা তার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারি না। কিছু বলতে গেলেই তিনি আমাদের ওপর চড়াও হন।

জানা গেছে, চেয়ারম্যানের এমন দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ স্বজনপ্রীতিসহ স্বেচ্ছাচারিতা করায় অতিষ্ঠ হয়ে পরিষদের অধিকাংশ সদস্য সদস্যারা অভিযোগ জানিয়ে জেলা প্রসাশকের কাছে দরখাস্ত করেন-

“পরিষদের সদস্য খোরশেদ আলম, শাহআলম, মুসলিম, হারুন মিজি, বুলবুল, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা মরিয়ম বেগম, ফিরোজা বেগমসহ সদস্যবৃন্দ”।

জেলা প্রসাশক বরাবর আবেদনে তারা সর্বমোট ২২টি দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে কর আদায়কৃত অর্থ আত্মসাৎ, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ১% উন্নয়ন খাতের তিন লক্ষ টাকা, ৪ ও ৭নং ওয়ার্ড সদস্য ভাতার বৃহৎ অংশ আত্মসাৎ।

৭ নং ওয়ার্ডে ভিজিডি কার্ডের সদস্যদের চাউল আত্মসাৎ, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যদের বাদ দিয়ে বেনামে প্রকল্প কমিটি করে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন পুর্বক আত্মসাৎ।

দরিদ্র বিমোচনে খাল পুনঃ খনন, পানি নিস্কাসনে একাধিক প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ, ৯নং ওয়ার্ড বিজিডি কার্ড দুর্নীতি, চেয়ারম্যান পুত্র ফয়সল এর নামে ন্যায্য মুল্যের চাউলের ডিলারশীপ দিয়ে দুর্নীতি করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে ধৃত হয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান।

পরিষদের মাত্র ৩ জন সদস্যকে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডের প্রকল্প কমিটির সভাপতি দেখিয়ে ৯টি ওয়ার্ডের প্রকল্প সম্পাদনে টাকা উত্তোলন, অসহায় ভুমিহীনদের মাঝে সরকারি গৃহনির্মাণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ আরও বিভিন্ন অভিযোগ এনে সুস্হ তদন্ত সাপেক্ষে তাঁরা চেয়ারম্যান নাছির বেপারীর পদত্যাগ দাবি করেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ব্যাপারির বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। একটা শ্রেণি তার মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার প্রয়াসে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করে চলছে।

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এমএএইচ