রায়পুরে জলাবদ্ধতা, দায়ভার কার?

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০

বৃষ্টি, অতি বৃষ্টি, বন্যা প্রকৃতিগত। এগুলো স্বাভাবিক, অতি স্বাভাবিক। কখনও কখনও এসব মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ালেও বাস্তবতা হচ্ছে এগুলো মনুষ্য সমাজ তথা প্রতিটি সৃষ্টির জন্য অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়। রোদ-বৃষ্টি প্রকৃত অর্থে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে থাকে।

প্রকৃতির প্রয়োজনেই আকাশ থেকে বর্ষিত হয় বৃষ্টি। এ বৃষ্টি কখনও কখনও এত ব্যাপকহারে বর্ষিত হয় যে, জনপদের পুকুর, ডোবা, খাল, নদী ভর্তি হয়ে উপচে পড়ে।

আমাদের দেশে সাধারণত বৈশাখ থেকে আশ্বিন, এই ছয় মাস প্রচুর বৃষ্টি হয়ে থাকে। সাথে অনেক সময় বন্যাও হয়ে থাকে।বৃষ্টির পানি সড়ক গড়িয়ে তা সঞ্চিত হয় পুকুর, খাল, ডোবা বা নদীতে। বন্যা ব্যতীত সাধারণত অতীতে কখনও দেখি নি বাজারে এভাবে পানি জমে থাকতে।

জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে ইদানিংকালে দেখা যায় জলাবদ্ধতা এখন শুধু বাজার নয়, আশপাশের গ্রামগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। অথচ অতীতে এমনটি সচরাচর দেখা যেত না।কারণ, তখন পানি নামার ড্রেনের ব্যবস্থা বা পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার জায়গা ছিল। পাশাপাশি ছিল পর্যাপ্ত পুকুর, খাল, নালা, ডোবা।

বর্তমানে বাজার বা এর আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি নামার জায়গা সংকুচিত হতে হতে এত সংকুচিত হয়েছে যে,অতি বৃষ্টি তো দূরের কথা,সামান্য বৃষ্টিতেও পানি জমে যায়।কারণ,কমে যাচ্ছে পুকুর,ডোবা,নালা।সংকুচিত হচ্ছে খালগুলো।

বৃহত্তর নোয়াখালী তথা রায়পুরের প্রাণস্পন্দন ডাকাতিয়া নদীটি মরে গেছে বহু আগেই নদী খেকো মানুষগুলোর কারণে। নদীর ওপরে বাঁধ দিয়ে মার্কেট তৈরী করে ব্যহত করেছে নদীর স্বাভাবিক গতি। নদীতে নেই জোয়ার ভাটা।নদীটি আজ রূপ নিয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। ময়লার স্তুপ জমতে জমতে এককালের উত্তাল ডাকাতিয়া আজ সংকুচিত হয়ে চলাচলের রাস্তায় পরিণত হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরশহর মুরিহাটা সড়কের পার্শ্ববর্তী পুকুর দু’টো ভরাটের মধ্য দিয়ে বাজার এবং আশপাশের পুকুর ভরাটের উৎসব শুরু হয় প্রতিযোগিতা দিয়ে।অধিক মুনাফা লাভের আশায় ভূমিদস্যু ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরগুলো স্ব স্ব উদ্যোগে বা যৌথ উদ্যোগে ভরাট করে বানিয়েছে আলীশান অট্টালিকা।

কেউই ভাবে নাই এবং এখনও ভাবে না পরিবেশের কথা, সমাজের কথা। এখনও কিছু পুকুর আছে ভবন তৈরীর প্রক্রিয়ায়। বাজারের দুই পাশের অনেকগুলো ছোট ছোট খাল, ডোবা নালা ভরাট হয়ে তৈরী হয়েছে দোকান এবং বসত-ভিটা। দেখা যাচ্ছে, খালের সাথের জমির মালিকরা খালের মধ্যে পিলার গেঁঢ়ে বাড়াচ্ছে নিজ জমির পরিমাণ।দুর্ভাগ্য আমাদের, এসব তদারকি বা দেখার কেউই নেই।নীরব প্রশাসন, নির্লিপ্ত জনপ্রতিনিধিরা।

রায়পুর বাজার বড় হয়েছে। বিল্ডিং হয়েছে প্রচুর। রাস্তার দু’পাশ কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। পানি নামার জন্য যেই ড্রেনগুলো বানানো হয়েছে সেগুলো হয় নি মানসম্পন্ন।পানি নামার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেই এমন দুরবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে আমাদের দায়বদ্ধতা কম নেই। আমরা বড্ড বেশি অসেচতন। সব ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে আমরা ড্রেনের মধ্যে ফেলতে যেন অভ্যস্ত।

আরেক ভয়াবহ কারণ পলিথিন। যত্রতত্র তা ফেলি।কোল্ড ড্রিংকস পান করা হয় প্রচুর। খেয়েই বোতলটা ছুঁড়ে ফেলি রাস্তা মধ্যে বা ড্রেনের মধ্যে।সকল প্রকার ময়লা, পলিথিন ও বোতল রাস্তা বা ড্রেনে ফেলার কারণে ড্রেনের মুখগুলো বন্ধ হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে না পেরে জমা হচ্ছে।

রায়পুর পৌর শহরের সুইপাররা প্রতিদিন ভোরে রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে থাকে। এ সময়ে তারা ড্রেনগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে না। ফলে নিত্যদিন দুর্ভোগ বাড়ছে বৈ কমছে না। এই বাজারটা পৌরসভার অধীনে।

এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসব কাজের তত্ত্বাবধানে গাফিলতি করে যাচ্ছে। হয়তো এসবের মূলে রয়েছে আরও অনেক অনেক সমস্যা। কে ভাবছে এসব নিয়ে?


লেখকঃ আব্দুর রব ছিদ্দিকী
সাধারণ সম্পাদক
রায়পুর যুব কল্যাণ সমিতি, ঢাকা


 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।