রায়পুর উপজেলা পরিষদ

রায়পুরে দুই কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে ১৬০ টন গম ফেরত গেল

প্রকাশিত: ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের ১৬০ মেট্রিক টন গম ফেরত দেয়া হয়েছে। ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কাবিখার দ্বিতীয় পর্যায়ের এ বরাদ্দ হয়েছিল।

জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দেলোয়ার হোসেন নামে এই দু’কর্মকর্তার মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ অবস্থায় বাতিল হওয়া ১৬০ মেট্রিক টন গম প্রকল্পের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের (ইউপি) মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফোরামের নেতারা বলছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জন্য প্রকল্পের বরাদ্দ ফেরত দেয়ার মাধ্যমে রায়পুরবাসীকে এই উন্নয়ন বঞ্চিত করা হলো। এই দ্বন্দ্ব নিরসনে ঊর্ধ্বতনদের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

সূত্রমতে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কাবিখা প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বরাদ্দে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৯৬ মেট্রিক টন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের একটি প্রকল্পের ৯ মেট্রিক টন ও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে

এ ছাড়া ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে ৫৫ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ হয়। রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এসব বরাদ্দ হয়। তবে, পিআইওর ভাষ্যমতে, ইউএনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৩০ জুন বরাদ্দগুলো ফেরত পাঠায়।

এদিকে রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও ৭নং বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফাজ্জাল হোসেন বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়া রায়পুরের ইতিহাসে এ প্রথম ঘটনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকারের স্বাভাবিক উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। চলমান সংকটগুলো নিয়ে আমরা ডিসির সঙ্গে বৈঠক করব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার চাকরি জীবনে এত অলস ইউএনও দেখিনি। তিনি ২৮ জুন রাতেও আমাদের বাসায় ডেকে কাবিখার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের ১৬০ মেট্রিক টন বরাদ্দকৃত গম ছাড় দেয়ার কথা বলেছিলেন। পরে তার একগুয়েমির কারণে বরাদ্দগুলো ফেরত যায়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি মামুনুর রশিদ বলেন, দুই কর্মকর্তার সমন্বয়হীনতার কারণে বরাদ্দটি ফেরত গেছে। এতে রায়পুরের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার ঘটনায় আমার কোনো গাফিলতি ছিল না। এ বিষয়ে পিআইওর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার বিষয়টি আমি অবগত না। তবে ইউএনও-পিআইওর মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা আমি শুনেছি। তাদের দ্বন্দ্ব নিরসনে আামি কথা বলব।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।