রায়পুরে দু’পক্ষের সহিংসতায় বাড়িঘর ভাংচুর, আহত-১০

প্রকাশিত: ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২১

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি নির্বাচন) নির্বাচনের দিন সহিংসতায় লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব হত্যাকাণ্ডের রেশ না কাটতেই পরবর্তী সহিংসতায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দু’পক্ষের মুখামুখি অবস্থানে বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় আহত হয়েছে ১০ জন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার নিয়ে আসেন। এসময় অন্তত ১০টি বসত-ঘর ভাংচুর করা হয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থরা। এ ঘটনায় উপজেলার উত্তর চরবংশী এলাকায় দু’পক্ষের সহিংসতায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত এখন পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন রায়পুর থানার ওসি আব্দুল জলিল। তবে দ্রুত সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। লুটপাট ও আহত হওয়ার খবর জানা নেই বলে জানান ওসি।

অপরদিকে নির্বাচনের দিন রামগঞ্জে সহিংসতায় ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদুর রহমান সজিব নিহতের ঘটনায় দুদিন পর গত সোমবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দাফনের পর মঙ্গলবার সকালে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করেন নিহত ছাত্রলীগ নেতার বড় বোন সুমি আক্তার। ঘটনার প্রধান আসামী মাসুদকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানান রামগঞ্জ থানা পুলিশ।

নিহত ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রামগঞ্জে ছাত্রলীগ সভাপতি সজিব হত্যাকাণ্ডের রেশ না কাটতেই নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় জড়িয়ে সোমবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের কুচামারা এলাকায় বিজয়ী মেম্বার জাহাঙ্গীর বকশী ও পরাজিত মেম্বার প্রার্থী মফিজ দেওয়ান সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা লুটের অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার। ঘটনার সময় স্থানীয় বিভিন্ন সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে প্রায় এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। পরে স্থানীয় হাজিমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও রায়পুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অপরদিকে, লক্ষ্মীপুর টুমচর আলীয়া মাদরাসার কামেল শেষ বর্ষের ছাত্র সজিব নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত এ ঘটনা কেউ মেনে নিতে পাড়ছে না আর সজিবের মা স্বামীর মৃত্যুর চার মাস আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে মা সামছুন নাহার এখন শোকে পাথর।

তিনি বিলাপ করে বলছেন,এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার থেকে প্রতিবাদ করায় হেলমেট বাহিনী দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মায়ের কথায় সান্ত্বনা দিতে না পেরে একমাত্র ছোট ভাইকে হারিয়ে সজিবের ৫ বোনও এখন শোকে পাগল প্রায়।

তারা বলছেন, পুলিশ প্রশাসনের সামনেই তাদের ভাইকে হত্যা করা হয়, অথচ প্রশাসন নিশ্চুপ ছিল বলে অভিযোগ করেন নিহত সজিবের বোন হাজেরা বেগম, সোনিয়া আক্তার ও আফরোজা বেগম। একই অভিযোগ করেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী মুরাদ হোসেন, নাইম হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম। তারা সজিব হত্যার সাথে সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন শরীফ জানান, রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয় এ ছাত্র নেতা।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রামগঞ্জের ইছাপুরের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘটনাস্থল এলাকার ভোটকেন্দ্র মাঠে তার জানাজায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ হাজারো মানুষ অংশ নেয় জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। এরপরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পুলিশের নিস্ক্রিয়তার কথা অস্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় নিহত ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুতে রামগঞ্জ থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ ২০ জনকে অঙ্গাত আসামি করে রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন নিহত ছাত্রলীগ নেতার বোন সুমি আক্তার।

এ ঘটনার প্রধান আসামী মাসুদকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত কিনা তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন।