রায়পুরে এক প্রসূতি মহিলার সিজারের ছবি ফেসবুকে!

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মাতৃছায়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রসূতির সিজারকালীন মহিলার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) পোস্ট করায় এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে চারদিকে।

হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপক পরিচালক তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ওই ছবি পোস্ট করার পর থেকে গত দুই দিন ধরে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানা গেছে, অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে ডাক্তার ও নার্সের সামনে হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান তুহিন নামে এ ব্যক্তি প্রসূতি মহিলার ছবি তুলেন। অথচ তিনি কোনো চিকিৎসক নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তি এই ঘটনা নিয়ে আবদুর রহমান তুহিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনগতভাবে এটি অপরাধ। কর্তৃপক্ষ তো দূরের কথা, অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তার এবং নার্স ছাড়া স্বজনরাও থাকতে পারে না। তাছাড়া কোনো প্রসূতির অনুমতি ছাড়া ছবি তোলে ফেসবুকে দেওয়া চরম অন্যায়।

গত রবিবার (২৪ মে) রায়পুর মাতৃছায়া হাসপাতালে এক প্রসূতি প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হয়। রাতে ডাক্তার ও নার্স ওই প্রসূতির সিজার অপারেশন শুরু করেন।

এ সময় রায়পুর মাতৃছায়া হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান তুহিন অপারেশন থিয়েটারে ডুকে অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতির কয়েকটি ছবি তুলেন এবং পরে ওই ছবিগুলো তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে দেন।

এরপর রায়পুর মাতৃছায়া হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তুহিনের করা পোস্টে একটি ছবি আপত্তিকর ছিল বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।

কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, তুহিনের বিরুদ্ধে এর আগে অনেক প্রসূতির নারীর অপারেশন থিয়েটারের ছবি এবং ভিডিও করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রসুতির সিজারের ছবি তুলার ঘটনায় প্রশাসননের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবিদ হাসান তুরছয় নামের এক ফেসবুক আইডিতে সে বলেছেন, কোনো প্রসূতি নারীর অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন চলাকালীন সময় কর্তপক্ষ উপস্থিতি থাকতে পারেন না। এটা পেশাদার সুলভ ও নিয়মনীতির পরিপন্থী। ছবি তুলে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা এটা সত্যি নজির বিহীন ঘটনা।

এ বিষয়ে আবদুর রহমান তুহিন জানিয়েছেন, মহামারি করোনার সময় মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য এই ছবি তুলে পোস্ট করা হয়েছে। প্রসূতির মুখের ছবিটি কীভাবে চলে আসে তা আমার জানা নেই।

তবে কয়েকজন এ ছবি নিয়ে সমালচনা করে আমার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছে বিষয়টি আমি দেখেছি।

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ