মেঘনায় চিংড়ি ধরার মহোৎসব

প্রকাশিত: ২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০

মন্ঞ্জুরুল ইসলাম সুমন: লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর মেঘনায় নানা প্রজাতির পোনা নিধন করে চিংড়ি ধরার মহোৎসবে অর্থ দিয়ে উৎসাহিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলায় উত্তর চরবংশী জয়দুল কবিরাজ ও আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থলপথে বিধিনিষেদ ও চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কোর্ডগার্ডের কিছু সদস্যকে ম্যানেজ করে নদী পথে ট্রালারযোগে বাগদা চিংড়ি পোনা পাচার করে চলেছে।

এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই জেলেরা প্রকাশ্যে গলদা-বাগদা চিংড়ির পোনা আহরণ করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা বলেন, রক্ষক যখন ভক্ষকের ভুমিকায় থাকেন তখন ধ্বংস হচ্ছে, নদী ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতি মাছের পোনা। ফলে মেঘনায় দিন দিন অস্থিত্বের সংকটে পড়েছে গলদা-বাগদা, ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতি মাছের রেণু পোনা।

জানা গেছে, গত ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের উপকূলীয় এলাকায় মাছের পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করলেও প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অদায়িত্বশীলের কারণে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর মেঘনা নদীতে চলছে গলদা-বাগদা ধরার মহোৎস।

এসব রেণু পোনা ক্রয়-বিক্রয় করতে রায়পুর উপজেলার পানিঘাট, হাজীমারা, পুরান বেড়ি, মেঘনা বাজার, টুনুরচর এবং মিয়ার বাজারে বসেছে আড়ৎদার।

এ ব্যপারে জয়দুল কবিরাজ বলেন, নদীর মাছ নদী পথেই ট্রালারে খুলনায় নিয়ে বিক্রি করি। সব ঠিক রেখেই ব্যবসা করতে হয়। অনেকদিন ধরে এ ব্যবসা করার কারনে সব কর্মকর্তাকে আমার চেননা-জানা আছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, নদীতে চিংড়ি রেনু পোনা শিকার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা এ চিংড়ি ধরতে গিয়ে হাজারও প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের পোনা নিধন করছে।

যার ফলে ধ্বংস হচ্ছে নদী ও সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা। ফলে মেঘনায় দিন দিন বাড়ছে অস্থিত্বের সংকটে গলদা-বাগদা চিংড়ি, ইলিশ ও অন্যান্য প্রজাতি মাছের পোনা।

রেনু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জেলেদেরে কাছ থেকে তারা এক হাজার পোনা ক্রয় করেন ৫ থেকে ৬’শ’ টাকায়। পরে এসব রেনু পোনা খুলনা, আলায়পুর ও ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় গলদা ও বাগদা চিংড়ির ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বিল্লাল হোসেন মেঘনায় অবাধে গলদা পোনা ধরার কথা স্বীকার করে বলেন, মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় চিংড়ি পোনা ধরার জন্য এক ঝটিকা অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ