ফাইল: ছবি

রায়পুরে স্বাস্থ্যকর্মীর মিনি ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

বিশেষ সংবাদদাতা: বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) তান্ডবে জনজীবন আজ শুধু বিপর্যস্তই নয়; করেছে আমাদেরকে নির্দয় ও নিষ্ঠুর।

ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে করোনার ভয় দেখিয়ে হাসপাতালে না নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী তার নিজ বাসায় মিনি ক্লিনিকে সিজার করতে গিয়ে এক প্রসুতি নারীর নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চলছে তোলপাড়।

ঘটনাটি সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিছনে টিসি সড়ক সরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্যকর্মী মায়ার নিজের বাসায় মিনি ক্লিনিকে ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এদিকে, করোনার ক্লান্তিকালে এমন খবর পেয়েই রায়পুর
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চোধুরীর নেতৃত্বে থানার পুলিশ কর্মকর্তা জালাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ওই স্বাস্থ্যকর্মীর উপযুক্ত বিচার করার আশ্বাস দিলে নবজাতকের-উত্তেজিত ও ক্ষুদ্ধ-স্বজনদের শান্ত্বনা দেয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত মৃত নবজাতকের মা মরিয়ম বেগম জানান, তিনি উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের শায়েস্তানগর গ্রামের মৃধা বাড়ীর প্রবাসী দেলোয়ারের স্ত্রী। গত কয়েকদিন ধরে তার পেটের বাচ্চা প্রসব যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন। তার পরিবার সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী মায়া বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে সে সোমবার দুপুরে করোনা ও টাকা বেশি খরচের ভয় দেখি তার নিজ ক্লিনিকে ভর্তি করান।

নিরুপায় হয়ে তার বাসায়ই মোটা অংকের টাকার চুক্তিতে ও ৩ হাজার টাকা অগ্রীম নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। ছোট সিজারের আগে পেটে বাচ্চা জীবিত ছিলো, কিন্তুু সে মৃত বাচ্চা বের করায় চিৎকার দিয়ে স্বজনদের খবর দেয়া হয়।

পরে স্বজনরা রায়পুর উপজেলা ইউএনও, রায়পুর থানার পুলিশ ও সাংবাদিকদের খবর দিলে স্বাস্থ্যকর্মী মায়া তার বাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। মৃত বাচ্চা (নবজাতক) সরকারি হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেছেন, জানতে পারি এমন ধরনে একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন এ নারী স্বাস্থ্যকর্মী। পরে এলাকার বখাটে ছেলে ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়। তার বাসায় এমন ধরনে চিকিৎসা ও মিনি ক্লিনিক বন্ধের জোর দাবি জানাই।

এদিকে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী মায়া বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেনি। বাসায় এসব ঘটনা হলে কিছু সমস্যা হবে, আবার সমাধানও হয় বলে তার স্বামী দাবি করেছেন।

রায়পুর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জাকির হোসেন বলেছেন, মৃত নবজাতকের রিপোট রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা লিখিত অভিযোগ দিলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্থদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ