রায়পুরে হতদরিদ্র ও অসহায়দের জন্য 'মিটব্যাংক'

রায়পুরে হতদরিদ্র ও অসহায়দের জন্য ‘মিট ব্যাংক’

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদন: কুরবানি, শুধুই মহান রবের উদ্দেশ্যে ফরজ করা হয়েছে সামর্থ্যবানদের জন্য। হাজার বছর ধরে এটি মুসলমানদের জন্য একটি ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুসলমানদের জন্য কুরবানির দিন গোটা উম্মাহর খুশির দিন, আনন্দের দিন, ঈদের দিন। পবিত্র হৃদয়ে, হালাল উপার্জনের অর্থ দিয়ে কেনা পশুটি আমরা কুরবানি করি মহান রবের নির্দেশ পালনে।

প্রতীকিভাবে মুসলমানদের নফসের কুরবানি করাই হচ্ছে, আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তবুও, রাব্বে কারীম কুরবানিকে মুসমিল উম্মাহর জন্য বাড়তি খুশির দিন বানিয়ে দিয়েছেন।

কারণ হিসেবে বলা যায় কুরবানির পশুর গোশত খাওয়া হালাল করে দিয়েছেন। তদুপরি আত্মীয়স্বজন, নিকটজন, দুস্থ-অসহায়দের বিলানোর নির্দেশও দিয়েছেন যাতে করে আনন্দটা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায়। সামাজিকভাবে সম্প্রীতির এমন অনন্য, উৎকৃষ্ট উদাহরণ আর কি হতে পারে!

প্রতিটি মুসলমানের ঘরে ঘরে সেই দিনটি একটু উৎকৃষ্টতম রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহপাক করে দিয়েছেন, এরচেয়ে বড় আনন্দ বা নেয়ামত আর কি হতে পারে!

আমরা সবাই মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির সার্বিক প্রভাব নিয়ে অবগত। এতে করে অনেক সামর্থ্যবান মানুষ উপার্জনের মাধ্যমটি হারিয়েছেন বা পরিবার নিয়ে অসহায় দিনযাপন করছেন।

যুগ যুগ করে মুসলমানের এই কুরবানি দিয়ে আসা অনেক পরিবারের পক্ষেই এ বছর হয়ত কুরবানি দেয়া সম্ভব হবে না। কুরবানি দেয়াটা যেমন ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে তেমনি সামাজিকতাও। সামাজিকতা এর অর্থে বলতে চাওয়া যে, অনেক পরিবার আছেন অর্থ-কষ্ট নিয়েও সামাজিকতার কারণে কুরবানিতে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

এ বছর তাদের সাথে যোগ হবে আরও অনেক পরিবার। এমনও অনেক পরিবার আছে, যারা প্রতি বছর হয়ত এক বা একাধিক পশু কুরবানি দিতেন, এবার তারা হয়ত কারও সাথে শরীক হওয়ার চেষ্টা করবেন। সেই সাথে সমাজের, আপনার চারপাশের দুস্থ-অসহায় মানুষরা তো আছেই!

এ ছাড়া বহু পরিবার আছেন, যাদের বছরে কুরবানির ঈদ ছাড়া গোশত খাওয়ার সুযোগ হয় না। সবকিছু বিবেচনায় রেখেই আমাদের একটি অতি মানবিক উদ্যোগ প্রজেক্ট: ‘মিটব্যাংক’।

সদ্য বিদায়ী পবিএ রমাদানে যেভাবে আমরা আপনাদের সহায়তায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, সেভাবেই আবারও ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দটুকু পৌঁছে দিতে চাই।

প্রজেক্ট: মিট ব্যাংক

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরের দরিদ্র অসহায়দের জন্য মিট ব্যাংক। ‘সামর্থ্যবানদের কোরবানীর মাংস সামর্থ্যহীনদের ঘরে রহমত হিসেবে পৌঁছে যাক’ এই স্লোগানের বাস্তবতায় প্রজেক্টটি আমরা দুইভাবে সাজিয়েছি।

প্রথমত: কুরবানির ঈদের দিন আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত দানের গোশত আমাদের কাছে পৌঁছে দিলে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা সেটা পূর্ব নির্ধারিত(যাচাইকৃত) তালিকা অনুযায়ী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে।

দ্বিতীয়ত: গণকুরবানি। এক্ষেত্রে আমরা আপনাদের সেই স্বতঃস্ফূর্ত অনুদান গ্রহন করবো (ঈদের আগে সম্ভাব্য শেষ গরুর হাঁটের দিন পর্যন্ত) বিগত রমাদানের মতো। আর সংগৃহীত অনুদানের টাকায় আমরা পশু (গরু) কিনে সেটা ঈদের দ্বিতীয় দিনে কুরবানি করে একইভাবে তালিকা মোতাবেক ঘরে ঘরে গোশত বিতরণ করবো।

নগদঅনুদান পাঠানোর জন্য আমাদের ফেসবুক পেইজে যোগাযোগের যে মোবাইল নম্বর দেয়া আছে,তাতে বিকাশ এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারবেন বা সরাসরি স্ব-শরীরেও পাঠানো সম্ভব। আশা করি মহতি এ উদ্যোগ বিফল হবেনা।
https://www.facebook.com/pg/amraraipur/posts/

আপনাদের আস্থাই হলো আমাদের আগামীর চলার পথের আলো, আপনাদের সবার স্বতঃস্ফূর্ততাই আমাদের শক্তি। অসহায়ের মুখে হাসি ফুটানো, সর্বোপরি মহান রব্বের সন্তুষ্টিই একমাত্র উদ্দেশ্য।

আর সে কারণে আমরা দান নিয়ে প্রচারে বিশ্বাসী নই, বরং শতভাগ জবাবাদিহিতা নিশ্চিতে বিশ্বাসী। আল্লাহ আমাদের সবার মনের ইচ্ছা পূরণ করুন।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।