রায়পুর পৌর কার্যালয়

রায়পুর পৌরসভার বর্তমান হালচাল

প্রকাশিত: ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি: ঋ‌ণে জর্জ‌রিত হ‌য়ে ধ্বং‌সের মু‌খে রায়পুর পৌরসভা, নেই কোনো নাগ‌রিক সু‌বিধা, চল‌ছে লুটপাট। কাগ‌জে কল‌মে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভা‌ এক‌টি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও। বাস্ত‌বে পৌরবাসী পা‌চ্ছেন না কোনো রকম নাগ‌রিক সু‌বিধা।

রায়পুর পৌর শহরের ভাংগাচূড়া রাস্তাঘাটের অ‌ধিকাংশই চলাচ‌লের অনু‌পো‌যোগী হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। সামান্য বৃ‌ষ্টি‌তে সৃ‌ষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। নেই রাস্তার লাইট, ড্রে‌নেজ ব্যবস্থা ও পয়ঃনিস্কাশ‌নের ব্যবস্থা। শতকরা ৮০টি হো‌ল্ডিং এ নেই পা‌নির সং‌যোগ। যে সামান্য সং‌যোগ র‌য়ে‌ছে তা‌তেও পা‌চ্ছে না পর্যাপ্ত পা‌নি। অথচ হো‌ল্ডিং ট্যাক্স বা‌ড়ি‌য়ে‌ছে ক‌য়েক’শ গুন।

অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে- প্র‌য়োজন না থাকা স্ব‌ত্ত্বেও প্রথম শ্রে‌ণির কাঠা‌মোগত আই‌নের ফা‌ঁকে পৌ‌নে ২ কো‌টি টাকা উৎ‌কোচ গ্রহন ক‌রে মেয়র একক সিদ্ধা‌ন্তে নি‌য়োগ দি‌য়ে‌ছে ১৭ জন নতুন কর্মচারী। চল‌ছে আ‌রও ৬ জ‌নের নি‌য়োগ বা‌ণি‌জ্যের পাঁয়তারা। এবা‌রের টা‌র্গেট এক কো‌টি টাকা।

গত দু’মাস পূ‌র্বে গোপ‌নে ৮০ লক্ষ টাকা টেন্ডার জা‌লিয়া‌তি ক‌রে‌ছিলেন মেয়র ইসমাইল খোকন। প‌রে অবশ্য বি‌ভিন্ন প্রচার মাধ্য‌মে বিষয়‌টি প্রকাশ পে‌লে এবং টেন্ডার ক‌মি‌টির সভাপ‌তি প্যা‌নেল মেয়‌র কাজী নাজমুল কা‌দে‌র গুলজা‌রের চরম বি‌রোধীতায় তা বা‌তিল ক‌রে পুনঃ টেন্ডার আহবান করতে বাধ্য হয় মেয়র যা আসছে ৩০ সে‌প্টেম্বর চূড়ান্ত হ‌বে বলে জানা গেছে।

এদিকে একাধিক অনুসন্ধা‌নে বে‌ড়ি‌য়ে এ‌সে‌ছে রায়পুর পৌর মেয়‌রের অ‌নিয়ম ও দুর্ণী‌তির বিশাল চিত্র। পৌরসভা এলাকার জ‌মি বি‌ক্রির ২% উৎস কর বাবদ সাব-‌রে‌জি‌ষ্ট্রি অ‌ফিস থে‌কে পৌরসভার ব্যাংক একাউ‌ন্টে পৌরসভার ফা‌ন্ডে) গত ৫ বছ‌রে জমা প‌ড়ে‌ছে প্রায় সা‌ড়ে তিন কো‌টি টাকা। এ টাকা সম্প‌র্কে জা‌নেন না কোনো কাউ‌ন্সিলর বা কর্মকর্তা। এ টাকার আয়-ব্যায় নি‌য়ে প্রশ্ন সক‌লের।

এদিকে, ডেঙ্গু প্র‌তি‌রো‌ধে মশা নিধ‌নে সরকা‌রের দেয়া বিশ লক্ষ টাকার পু‌রোটাই আত্মসা‌তের অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে রায়পুর পৌর মেয়র ইসমাইল খোকনের বিরু‌দ্ধে। এম‌পি পাপু‌লের দেয়া মশার ওষুধ ২/৩ দি‌ন কিছু স্থা‌নে ছি‌টি‌য়ে সরকা‌রি ওই টাকাটা আত্মসাৎ ক‌রে‌ছে মেয়র।

এছাড়া পৌর‌শহরে শিশুপার্ক নির্মা‌ণের না‌মে ডাকা‌তিয়া নদীর প‌শ্চিম পার্শ্বস্থ ওয়াপদার জ‌মির উপরস্থ বিপুল সংখ্যক প্রাচীন বিশালাকার কাঠ গাছগু‌লো কে‌টে বি‌ক্রি ক‌রে ৮৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ক‌রে‌ছে মেয়র ইসমাইল খোকন। এখনও হয়‌নি শিশুপার্ক নির্মাণ।

প্র‌ভিডেন্ট ফান্ড (‌পিএফ) ও গ্রাচ্যু‌য়ে‌টি ফান্ড (‌জিএফ) ব্যতীত কর্মকর্তা-কর্মচারী‌দের মোট মা‌সিক বেতন ২৫, ০৮, ৫৭৫/= টাকা। ১২ মা‌সের বেতন ব‌কেয়া কর্মকর্তা কর্মচারী‌দের। মান‌বেতর জীবন-যাপন কর‌ছেন তারা।

গত জুলাই ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ব‌কেয়া বেত‌ন প‌রিমাণ দা‌ঁড়ি‌য়েছে ২,৫৪,২১,৭৬৯/= টাকা। এছাড়া আনু‌তো‌ষিক, ভ‌বিষ্য তহ‌বিল ও অন্যান্য ভাতার ব‌কেয়ার প‌রিমাণ ৮, ৭৫, ৭৫, ৩৫১/= টাকা। হি‌সেব মতে, জুলাই ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ব‌কেয়া প‌রিমাণ দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছে ১১,২৯,৯৭,৩১৫/= টাকা।

সূ‌ত্রে‌ জানা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারী‌দের পি এফ এবং জি এফ এর টাকা ব্যাং‌কে গ‌চ্ছিত থাকার কথা, কিন্তু তা নেই। এ‌তে ভবিষ্যত দুঃ‌শ্চিন্তা ও অ‌নিশ্চয়তায় রয়েছেন কর্মকর্তা কর্মচারী‌গণ। এ‌দি‌কে আগষ্ট ২০২০ সাল পর্যন্ত পৌরসভার কাছে পল্লী বিদ্যু‌ত ব‌কেয়া পাওনা দশ লক্ষা‌ধিক টাকা।

রায়পুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউ‌ন্সিলর আহসান মাল ব‌লেন, পৌরসভার ‌মেয়‌রের কা‌ছে আমা‌দের কোনো মূল্যায়ণ নাই। উ‌নি ওনার খেয়াল খু‌শি মতোই পৌরসভা চালা‌চ্ছেন, কোনো বিষ‌য়েই আমা‌দের জি‌জ্ঞেস ক‌রেন না তিনি।

পৌর ৪ নং ওয়ার্ড কাউ‌ন্সিলর সগীর আহ‌মেদ ব‌লেন, মেয়র কো‌টি কো‌টি টাকা লুটপাট ক‌রে খা‌চ্ছেন। পাগ‌লের মতো হঠাৎ ক‌রে পূ‌র্বের ১ হাজার টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স‌কে এক লা‌ফে বা‌ড়ি‌য়ে ২০/২৫ হাজার টাকা নির্ধারন করার কারণে সর্বসাধারণ মানু‌ষের মাঝে মারাত্মক ক্ষো‌ভের সৃষ্টি হ‌য়ে‌ছে।

রায়পুর পৌরবাসী ১ম শ্রেণির পৌরসভার কথা দূ‌রে থাক, ইউ‌নিয়নবাসীর সমপ‌রিমাণ সেবা টুকুও পা‌চ্ছেনা। মেয়র প্রথম বছর সাংবা‌দিক স‌ম্মেলন ক‌রে পৌরসভার বা‌জেট ঘোষণা ক‌রে‌ছি‌লেন। পরবর্তী চার বছর কোনো বা‌জেট ঘোষণা হ‌য়ে‌ছে ব‌লে আমার জানা নেই। মেয়‌রের অ‌নিয়ম ও দুর্ণী‌তির বিষ‌য়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ও দুদ‌কের তদন্ত দাবি ক‌রেন এ কাউ‌ন্সিলর।

বাজা‌রের ব্যবসায়ী ভূঁইয়া ট্রেডা‌র্সের মা‌লিক কালাম ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে‌ বলেছেন, পৌর মেয়র ইসমাইল খোকন বাজা‌রের ডাক দি‌য়ে‌ এখন ফুটপা‌তের হকার ও ভ্যানগাড়ী থে‌কে দৈ‌নিক খাজনা আদায় কর‌ছেন। যা‌তে করো অ‌বৈধ ব্যবসায়ীরা বৈধতা পে‌য়ে গে‌ছেন। হকার আর ভ্যানগাড়ীর কার‌নে বাজা‌রে জ্যা‌মের সৃ‌ষ্টি হয়ে‌ছে ও দোকা‌নের সাম‌নে ভ্যানগাড়ী রাখার কার‌নে আমা‌দের ব্যবসার অসু‌বিধা হ‌চ্ছে।

‌দেনা‌য়েতপু‌রের অ‌ধিবাসী মোতা‌লেব মিয়া জানান, রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন অ‌বৈধ অ‌টোরিকশা (মিশুক) এর কাছ থে‌কে ১০ টাকা ক‌রে টোল নি‌য়ে অ‌বৈধ এসব অ‌টো‌কে বৈধতা দি‌য়ে শহ‌রের রাস্তা‌কে রাজধানীর মত জ্যা‌মের শহ‌রে প‌রিণত ক‌রে‌ছেন।

পৌরসভার অ‌নিয়ম ও দুর্ণী‌তি নি‌য়ে রায়পুর পৌর মেয়র ইসমাইল খোকনের কা‌ছে জান‌তে চাই‌লে তি‌নি এ ব্যাপা‌রে কথা বল‌তে অপারগতা প্রকাশ ক‌রেন। তি‌নি ব‌লেন, আমার বিরু‌দ্ধে নির্বাচ‌নে প্র‌তিদ্ব‌ন্দ্বিতাকারীরা আমার বিরু‌দ্ধে এসব অপপ্রচার চালা‌চ্ছে।

হারুনু রশীদ (যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগ) এর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।