রায়পুর মেঘনা-ডাকাতিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২০

রায়পুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর রায়পুরে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী এবং তার সংযোগ খাল থেকে ১০ টি পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এতে নদী ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নদীর তীরে থাকা ফসলি জমি ও ভিটেমাটি বিলীনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

এ ছাড়া অবৈধ বালু বোঝাই ট্রাক্টর অবাধে চলাচল করায় ইতোমধ্যে ৪ ইউপি’র গ্রামের কাঁচারাস্তা ও মহাসড়কের বেশ কিছু এলাকা দিয়ে চলাচলের কারণে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে জনসাধারণ’সহ যানবাহন।

অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও বন্ধের নেই কোনও উদ্যোগ বা স্থানীয় প্রশাসন এর বিরুদ্ধে করছে না কোনো তদারকি। তা ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর দৃষ্টি আকর্ষন করলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চরআবাবিল ইউনিয়নের ‌মেঘনা বাজারের বালু ব্যবসায়ী সো‌হেল, চর বংশী ইউপির আলতাফ মাস্টার ঘাট এলাকার বিল্লাল ক‌বিরাজ, খা‌সের হাট এলাকার মোহাম্মদ আলী খায়, হাজীমারা সুইজগেট মো. জালাল ও আবু তাহের গ্রামের মধ্যে ড্রেজার মেশিন দিয়ে চলছে রাতদিন বালু উত্তোলন।

বালু উত্তোলনের পর তা বিক্রির জন্য শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রাক্টরযোগে বিভিন্ন জায়গায় আনা-নেয়ার ফলে এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া বালু উত্তোলনের ফলে এলাকার বেশ কিছু আবাদি জমিজমা ও বসতভিটে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ইতোমধ্যে গ্রামের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর তীর ঘেঁষে ১০-১৫ বিঘা জমি নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে ১০টি স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন এ সব বালু উত্তোলনের পর বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করাসহ পুকুর ও জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে।

এরা এতটাই প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি প্রতিবাদ করলে অপমান অপদস্থসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে।ইতোমধ্যে অনেকের আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও বেশ কিছু জমি নদীতে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পর ট্রাক্টর দিয়ে বালু আনা-নেওয়ার কারণে এলাকার বেশ কয়েকটি কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পায়ে হেঁটেও চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এসব রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।

এ সম্পর্কে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হোসেন আহাম্মদ, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজি, উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ’সহ দক্ষিণ চরআবাবিল ইউপি’র চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন জানান, মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তারা আইনি ব্যবস্থা না নিলে কিছু করার নেই।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী বলেন, কয়েকবার অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। দ্রুত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এমএএইচ