রেমডেসিভির বাজারজাতের অনুমতি পেল এসকেএফ

প্রকাশিত: ৯:১২ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০২০

মহামারি করোনারভাইরাস সংক্রমণ রোধে কার্যকর ওষুধ রেমডেসিভির বাজারজাত করার অনুমোদন পেয়েছে দেশের খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

গত রবিবার (২৪ মে) ঔষধ প্রশাসন এই অনুমতি দেয়। অনুমতি পাওয়ার পরে এসকেএফ ইতিমধ্যেই ১৩টি হাসপাতালকে এই ওষুধ সরবরাহ করেছে। এসকেএফের উৎপাদন করা রেমডেসিভিরের বাণিজ্যিক নামকরন করা হয়েছে ‘রেমিভির’।

রেমডেসিভির বাজারজাতের অনুমোদনের বিষয়ে ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা এসকেএফকে ওষুধটি বাজারজাত করনের অনুমতি দিয়েছি। তারা এটা করোনার চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত সরকারি’সহ বেসরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করতে পারবে।

রেমডেসিভির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন গত মার্চ মাসে ওষুধটি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

অনুমোদনের পরই এসকেএফের ফরমুলেশন বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে রেমডেসিভির নিয়ে কাজ শুরু করেন। এসকেএফ মে মাসের প্রথম সপ্তাহ ধরে এর উৎপাদনের সব প্রক্রিয়া শেষ করে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঔষধ প্রশাসন আজ এটি বাজারজাতের অনুমতি দেয়।

এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন বলেন, এসকেএফ চায় বাংলাদেশের মানুষকে করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষা দিতে। এর চিকিৎসা যেন সহজলভ্য হয়, সে জন্য এসকেএফ কাজ করছে।

রেমডেসিভির জাতীয় ওষুধ রেমিভির তৈরির পেছনেও সেই একই লক্ষ্যে কাজ করেছে। করোনা প্রতিরোধে প্রাথমিক পরীক্ষায় উৎসাহব্যঞ্জক ফল পাওয়ায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান গিলিয়েড সায়েন্সেস কোম্পানির তৈরি এই ওষুধ সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ), জাপান সরকার এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ ‘ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি’ বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি ওষুধ হিসেবে রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

এসকেএফের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রেমিভির উৎপাদন করা হয়েছে এসকেএফের ফারাজ আইয়াজ হোসেন ভবনের প্ল্যান্টে। সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ও সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি কার্যকারিতা দেখিয়েছে এই রেমডেসিভির। গিলিয়েডের নিজস্ব পরীক্ষায় দেখা যায়, এ ওষুধ ব্যবহারে রোগীদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

মানুষের শিরায় ইনজেকশন হিসেবে এই ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। রোগের তীব্রতার ওপর এর ডোজ নির্ভর করে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য ৫ অথবা ১০ দিনের ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।

প্রসঙ্গত, শিল্পপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৩০ বছর ধরে ওষুধ উৎপাদন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাইরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের ৩০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে আসছে।

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ