লক্ষ্মীপুরে আম পাড়া নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১০

প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

রায়পুর সংবাদদাতাঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারীসহ ১০ জন মারাত্নক জখম হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিন নারীসহ ৭ জনকে রায়পুর ও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে উপজেলার চরআবাবিল ইউপির উদমারা গ্রামের মাঝি বাড়ীতে। এ ঘটনায় বিল্লাল, বাহার ও হেলেনা বেগমসহ ৫ জনের নামে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত দেলোয়ার হোসেন জানান।

হাসপাতালে ভর্তি আহতরা হলো, ফিরোজ আলম, ফারুখ হোসেন,সুরুভি আক্তার,মরিয়ম, বিল্লাল, বাহার ও হেলেনা বেগমসহ ১০ জন।

গ্রামের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রায় ১ বছর আগে ইসমাইল হোসেন বড় ভাইয়ের বাহারের অত্যাচারে  অতিষ্ঠ হয়ে পরিবার নিয়ে শশুর বাড়িতে অস্থায়ী বসবাস করে আসছেন।

এতে করে তার সম্পত্তির অংশের বাগানের বিভিন্ন ফল (আম, লিচু, কাঁঠাল,মন্ডল ও নারিকেলসহ অন্যান্ন ফল) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের এলাকার ফিরোজের কাছে এক বছরের জন্য লিজ দেয় ছোট ভাই ইসমাইল হোসেন।

এদিকে যখনি ফিরোজ তার লিজকৃত বাগানের ফল পাড়তে যান তখনি বাহার মাঝির নের্তৃত্বে তার পরিবার বাধাসহ হামলার চেষ্টা চালায়। এরইমধ্যে থানায় দুইবার জিডিও করা হয়েছে।

এ বিষয়টি মিমাংসায় কয়েকবার রায়পুরের হায়দরগঞ্জ ফাঁড়ি থানায় ওসির নের্তৃত্বে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসলেও বাহারসহ তার পরিবার মেনে যায় এবং পরে আবার বাড়ি গিয়ে বড় ভাই বাহার উলটে যায়।

এ বিরোধ চলা অবস্থায় আজ বুধবার (২৭ মে) বিকেলে ফিরোজেরসহ তার পরিবার লিজকৃত ওই বাগান থেকে আম পাড়তে গেলে বাহার মাঝি, তার ভাই বিল্লাল মাঝি, স্ত্রী হেলেনা ও মেয়ে শিউলি আক্তার বাধা দেয়।

এতে উভয় পক্ষে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশিয় অস্ত্র (দা, ছেনি ও টেটা) নিয়ে সংঘর্ষ বেঁধে গিয়ে নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের ৭ জনকে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে পাঠান।

এই ঘটনায় রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ফিরোজের ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন ও আহত বিল্লাল মাঝির ভাতিজা সোহেল পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

চরআবাবিল ইউপির ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহ আলম হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, বাহার ও বিল্লাল মাঝির পরিবার উশৃংল। তারা সালিশ বৈঠক মানে না। আজকের ঘটনায় তারাই অপরাধী। কঠিন বিচার হতে হবে।

রায়পুর সরকারি হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাঃ তাহমিনা বিনতে হুমায়ুন জানান, উভয় পক্ষই কুপাঘাতে মাথা, হাত, পা ও পিঠে মারাত্নক জখম হয়েছেন। ফিরোজ, ফারুখ, সুরুভি ও মরিয়মকে রায়পুর হাসপাতালে ভর্তি করে পরে বিল্লাল, বাহার ও হেলেনাকে সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

রায়পুর থানার ওসি তোতা মিয়া জানান, এক পক্ষ থানায় মামলা প্রস্ততি নিয়েছেন। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ