লক্ষ্মীপুরে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু ২৮

লক্ষ্মীপুরে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু ২৮, আক্রান্তের সংখ্যা ৬ শতাধিক

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২১

করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত রোগী: প্রতিকি ছবি


লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনায় (কোভিড-১৯) মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় ১ জনের মৃত্যুসহ ২৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়। গত ৮ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ জন স্বাস্থ্যসহকারীসহ সদর হাসপাতালে ভর্তিরত দুইদিনের শিশুসহ ২৮ জন।

সর্বমোট জেলাটিতে করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৬ জন। ৮ দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৬’শত চার জন। আর জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪হাজার ৬শত ২৯ জন। কঠোর লকডাউনের ফলে প্রায় দূরপাল্লাসহ সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে করোনার উচ্চ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর জেলার শহর-গ্রামে বেড়েছে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় জেলার প্রতান্ত অঞ্চলে সর্দি ও জ্বরের প্রকোপ আশংঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আক্রান্তরা বেশিরভাগ শিশু ও বৃদ্ধ হলেও ভয়ে মহামারি করোনার পরীক্ষা করছেন না তারা।

এদিকে প্রতিদিন সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নমুনা দিতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। দিনকে দিন করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও সাধারণ মানুষ মানছেনা স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব। যেই যার মত করে ঘর থেকে বের হচ্ছে। হাট বাজারে বিভিন্ন বয়সী মানুষ নানা অযুহাতে বের হয়ে করছেন ভিড়।

বেশিরভাগ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। অপরদিকে শহরে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও গ্রামে গঞ্জে নেই তৎপরতা তেমন। সে কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতিতে বিক্রেতারাও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সার্টার খুলে মালামাল তুলে দিচ্ছেন ক্রেতাদের হাতে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলেও করোনা সংক্রমণ আরও কয়েকগুন বাড়বে বলে আশংকা করছেন জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ।

সদর হাসপাতালের করোনা (কোভিড-১৯) ইউনিটের চিকিৎসক মো. মাজহারুল ইসলাম মাসুম জানান, গত কয়েকদিনে করোনা ইউনিটে রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। প্রতিটি রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে বা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে এ করোনা সংক্রমন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ জন্য সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ এ চিকিৎসকের।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: আবদুল গফ্ফার জানান, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। করোনা ইউনিটের সিল খালি নেই। হাইফ্লোও অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে তিন বেডের আইসিইউ যা পর্যাপ্ত নয়।

এছাড়া তিনি আরো বলেছেন, ইতিমধ্যে তিন বেডের আইসিইউ সুবিধা পেয়েছে অন্তত ২০০ রোগী। আরও আইসিইউ বেডের বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে। জেলায় করোনা শনাক্তের হার ৫০ পার্সন। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন।