লক্ষ্মীপুরে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত পেলেন শিক্ষক মঞ্জুর আহাম্মেদ!

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা: ভূমিহীন না হয়েও লক্ষ্মীপুরে কোটি টাকার এক একর সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নেওয়ার অভিযোগ লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মঞ্জুর আহাম্মেদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয়রাসহ ক্ষোভ জানিয়েছেন শতাধিক ভূমিহীন।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসক কার্যালয় কর্মকর্তাদের সন্তানদের প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে ভূমিহীন সেজেই ২৯/১৪-১৫নং জমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মঞ্জুর আহাম্মেদ।

তার মা সদর উপজেলার চর মনসা এলাকার মনোয়ারা বেগমের নামে তিনি প্রায় কোটি টাকার জমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন। ওই কোটি টাকার সরকারি জমি বন্দোবস্ত পেয়েই দখলের নামে উচ্ছেদ করা হয় অর্ধশত ভূমিহীন পরিবারকে।

এ নিয়ে ভূমিহীন পরিবারের পক্ষে বন্দোবস্ত নথি বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন স্থানীয় ওমর ফারুকের স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা নামের এক নারী।

জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগকারী ফজিলাতুন নেছা জানান, ভূমিহীনরাই শুধু সরকারি জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু ধনী কিংবা সরকারি চাকরিজীবীরা তা পেতে পারে না।ভূমিহীন না হয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা তা বন্দোবস্ত পায় কীভাবে?

ফজিলাতুন নেছা বলেছেন, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুর আহাম্মেদের মা মনোয়ারা বেগমের নামে নেয়া এক একর জমির বন্দোবস্ত বাতিল করা হোক।

প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেছেন, বন্দোবস্ত বাতিল চেয়ে এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের বরাবর দু’বার আবেদন করেছি; কিছু হয়নি। এরপর মাধ্যামিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করে বিষয়টি জানানো হয়।

এ ছাড়া একই এলাকার চরমনসার ফুয়াদ আহাম্মেদ বিন ফয়েজ জানান, মঞ্জুর আহাম্মেদ ও তার ভাই জিয়া উদ্দিন স্বপন, রিপন, শিপন এলাকায় জোর-জুলুম করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পত্তি দখল করে তারা। এ জন্য এলাকার মানুষ ভূমিদস্যু নামে চেনে তাদের।

কিছুদিন আগেও জমির ফসলাদি নিয়ে বিবাদও হয়। ওই সময় তাদের বিবাদী করে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। কিন্তু মঞ্জুর আহাম্মেদ বড়াই করে বলে বেড়ান, ‘ডিসি অফিসের অনেক কর্মকর্তার সন্তান প্রাইভেট পড়তে আসে আমার কাছে আমার বিরুদ্ধে ডিসি অফিসে অভিযোগ করে কিছুই হবে না। অভিযোগ হবে; কিন্তু বন্দোবস্ত বাতিল হবে না।’

এ সব বিষয়ে মঞ্জুর আহাম্মেদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিষয়টি পরে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। এরপর আর মোবাইল কল রিসিভ করেনি তিনি।

তবে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে এমনিতেই মঞ্জুর আহাম্মেদ ৪০-৫০ হাজার টাকা বেতন পান। আর সদর উপজেলার চরমনসায় তার বাড়ি থাকার সুবাদে অনেক ধন-সম্পদের মালিকও তিনি। তা সত্ত্বেও তিনি এক একর সরকারি জমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন, তা হতে পারে না।’ বন্দোবস্ত বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের তা দেয়ার আবেদন করেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এনডিসি রুমন দে জানান, লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মঞ্জুর আহাম্মেদের মা মনোয়ারা বেগমের নামে ২৯/১৪-১৫ নথি নম্বরের বন্দোবস্ত বাতিল চেয়ে এ পর্যন্ত দুটি আবেদন পেয়েছেন তিনি। এই বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্তে ভূমিহীন প্রমাণিত না হলে তা বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, বন্দোবস্ত নথি বাতিলের একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে এনডিসি ও সদর এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এমএএইচ