লক্ষ্মীপুরে ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ পাননি!

লক্ষ্মীপুরে ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ পাননি!

প্রকাশিত: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর সাম্প্রতিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ ত্রাণ পাননি। সরকারি ভাবে তালিকায় নাম থাকার পরও তাদের দেওয়া হয়নি ত্রাণ। এমন অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলার চররমণী মোহন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে।

এদিকে সহায়তা না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই জানিয়েছেন ক্ষোভের কথা। তারা বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে জমা দিয়ে সরকারি ত্রাণ সহায়তা তুলেছেন তিন সপ্তাহ আগে। প্রশাসনের তদারকির অভাবে সেই সহায়তা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছেনি।

গত আগস্ট মাসে কয়েক দফা মেঘনার জোয়ারে বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে পানিবন্দি ছিল সদর উপজেলার ১০ হাজার মানুষ। সে সময় জোয়ারে উঠতি আউশ, আমন বীজতলা ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভেঙে যায় অনেক মানুষের ঘরবাড়ি। এখনও মেরামত হয়নি চররমণী মোহন থেকে মতিরহাট বেড়িবাঁধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে কমলনগর ও রামগতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষ হলেও সদর উপজলোর চররমণী মোহন এলাকার দু-একটি ওয়ার্ডেই শুধু ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বাকিরা কেউ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, তালিকাভুক্ত অনেকের মধ্যে চালও বিতরণ করা হয়নি।

চররমণী মোহন ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা এনায়েত উল্লাহ বলেছেন, অতি জোয়ারে তার আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে, ভেসে গেছে মাছের ঘের। ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।তালিকায় নাম উঠলেও ত্রাণের চাল জুটেনি ভাগ্যে।

সেরাজুল হক জানান, তালিকায় তার ছেলে রাশেদের নাম থাকলেও ত্রাণ পাননি। ওই ওয়ার্ডের জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত মোতাহের ও তার পুত্র মাসুদের নাম তোলা হয়েছে নগদ টাকার তালিকায়। কিন্তু তারাও অর্থসহায়তা পাননি।

স্থানীয় মেম্বার মো. খোরশেদ জানান, তিনি তার এলাকার জন্য ২২৫ জন ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা তৈরি করে চেয়ারম্যান এর কাছে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ জনকে ১০ কেজি করে চাল ও ২০ জনকে ৫’শ টাকা করে দেয়ার অনুমতি পান তিনি। চেয়ারম্যান শুরু থেকেই তালিকা অনুযায়ী চাল ও নগদ টাকা বিতরণে দেরি করছেন।

চররমণী মোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল জানান, সরকারিভাবে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও ৭ টন চাল এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পেয়েছেন তিনি। তালিকাভুক্তদের মধ্যে নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কেউ পাননি এমন অভিযোগ তার ইউনিয়নে নেই। ত্রাণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, ত্রাণ ও নগদ টাকা বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।