লক্ষ্মীপুরে চার সহস্রাধিক ভিটে-মাটি পানির নীচে, আউশ আমনের ব্যাপক ক্ষতি

লক্ষ্মীপুরে চার সহস্রাধিক ভিটে-মাটি পানির নীচে, আউশ আমনের ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: সাগরে বিরূপ আবহাওয়ায় লক্ষ্মীপুর, কমলনগর, মতিরহাট ও সদরের বাত্তির খাল এলাকায় চার সহস্রাধিক বাড়ি-ঘর পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এতে করে পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে ২০ হাজারেরও বেশী মানুষ ও হাজার হাজার একর উড়তি আউশ, আমন বীজতলা পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

এর মধ্যে সদর উপজেলার চররমনীমোহন ইউনিয়নে বাত্তিরখাল এলাকার বাঁধটি ভেঙ্গে দু’সহস্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে উড়তি আউশ, আমন বীজতলাসহ প্রায় দু’হাজার একর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো. ইউছুফ ছৈয়াল।

অপরদিকে সবচেয়ে বেশী চেয়ে কমলনগরের ক্ষতিগ্রস্থ জয়বাংলা খালের পাশে মতিরহাট বাজারের পূর্ব পাশ থেকে মতিরহাট-তোরাবগঞ্জ রাস্তা ছয়টি স্পটে কয়েক’শ ফুট পাকা রাস্তা ছিড়ে গিয়ে মেঘনার প্রচন্ত জোয়ারের পানি এসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এতে করে জেলা সদর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কমলনগরের পুরো কালিকিনি ইউনিয়নের পূরোটাই বর্তমানে পানিতে ভাসছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মধ্যে রয়েছে-

মতিরহাট বাজার, মতিরহাট হাইস্কুল, জেলার সবচেয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মাতব্বরহাট, নবীগঞ্জ, বলিরপুল, হাজীমার্কেট, মিয়া মার্কেট, কালকিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিক চৌধুরী জানান, বর্তমানে মতিরহাট বাজারের দোকান-পাট, আশে পাশের এবং তার নিজের বাড়ী ভিটি বর্তমানে প্রায় আড়াই ফুট নীচে তলিয়ে গেছে।

এ ছাড়া আসবাবপত্র ভিজে গিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় মানুষগুলো। এভাবে এলাকার প্রায় দু’হাজারের বেশী পরিবারের বাড়ীঘর ডুবে গেছে। এতে অনেকের বাড়ী চুলেতে পাতিলও বসাতে পারেনি। এদিকে এলাকা মেঘনার ভাঙ্গন তীব্রতর থেকে তীব্রতর হয়েছে। মেঘনার পাড়ের হাজার হাজার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।অনেকে খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন।

মতিরহাট বাজারের বাঁধটি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে মানুষের কস্টের সীমা বহুগুন বেড়ে গেছে। দূর্যোগ মোকেবেলায় জরুরি ভিত্তিতে সরকার ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন।

এদিকে এলাকার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন বাপ্পীকে তার মুঠোফোনে বার বার ফোন দিয়েও তাঁর সাক্ষাত পাওয়া যায়নি।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।