লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় ভয়াবহ ভাঙ্গন

লক্ষ্মীপুরে দেখা দিয়েছে মেঘনা নদীতে ভয়াবহ ভাঙ্গন

প্রকাশিত: ৭:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২১
লক্ষ্মীপুরের রামগতি বালুরচর এলাকায় প্রতিদিন এভাবে ভাঙছে মেঘনা নদী

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা: বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে দেখা দিয়েছে লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন। নদীর তীরবর্তী টেকসই রক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রবল স্রোতে মেঘনা নদীর ৪৪ কিলোমিটার এলাকায় জুড়ে শুরু হয়েছে মেঘনার ভাঙ্গন। তিন যুগ ধরে সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বহু বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে।

জানা গেছে, এর মধ্যে নদীর প্রবল স্রোতে নতুন করে আবার সদর উপজেলার চর রমনী মোহন, রামগতি উপজেলার বালুরচর, সুজন গ্রাম, আসলপাড়া, বড়খেরী, টাঙ্কীবাজার, কমলনগরের চর কালকিনি, চর ফলকন, সাহেবের হাট, পাটোয়ারীর হাট, লুধুয়া ও নাছিরগঞ্জ এলাকাসহ তিনটি উপজেলা মেঘনায় ভাঙছে।

প্রতি বছর তীরবর্তী মানুষ বাড়িঘর ও সম্পদ হারিয়ে নি:স্ব হয়েছে বহুবার। এর মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি বছর ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বড়খেরী ও লুধুয়া বাজার এবং কাদিরপাতের হাট এলাকা ভাঙন থেকে রক্ষাকল্পে একনেক ‘কমলনগর ও রামগতি উপজেলাকে রক্ষায় তিন হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকার প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়য়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার।

এদিকে প্রকল্প পাসের এমন খবরে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার উপকূলীলবাসী দারুণ খুশি। তাদের দাবী দ্রুত বেড়ি বাঁধ সংস্কার করে লাখখো জনতার স্বপ্নসাধ ও বসত বাড়ি রক্ষার। তবে কমলনগর ও রামগতি উপজেলা বাঁচাও মে র আহবায়ক এ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান জানান, ভাঙনকবলিত মানুষ চাচ্ছে প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন।তা না হলে টাকা শেষ হয়ে যাবে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার উপকূলীলবাসীর কোন উপকারে আসবে না। হবে না নদী ভাঙনরোধের কাজ স্থায়ী কাজ।

এর আগেও মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে রামগতির আলেকজান্ডার বাজার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রক্ষায় ২০১৪ সালে ১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এতে আলেকজান্ডার বাজার রক্ষায় প্রায় ৩ কিলোমিটার কাজ করে সেনাবাহিনী।

একই বরাদ্দের অংশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কমলনগরের মাতাব্বরহাট এলাকায় ১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে। মাতাব্বরহাটের ১ কিলোমিটার বাঁধে অনিয়ম হওয়ায় ১ বছরে অন্তত ১০ বার ধস নামে। রামগতির আলেকজান্ডার ও কমলনগরে কয়েকস্থানে বাঁধ নির্মাণ কাজ এ সরকারই করেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কমলনগর ও রামগতি বাঁচাও ম ।

এদিকে কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার ছায়েফ উল্ল্যাহ্ জানান, গত এক বছর তার ইউনিয়নে ছয়,সাত ও আট নং ওয়ার্ড নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে যায়। এর আগে আউটার বেড়িবাধঁ, উপকূলীয় বেড়িবাঁধসহ তিনটি বাধ,সাহেবের হাট তালতলী বাজার, নাছিরগঞ্জ বাজার, চৌরাস্তা বাজারসহ প্রায় ২৫টি মসজিদ, চরকালকিনি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, তালতলী সরকারি প্রা: বিদ্যালয়, চর কালকিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিস মেঘনায় তলীয়ে যায়।

যার ফলে ২৯ হাজার লোকবসতি থাকলে ভাঙনের কারনে পার্শ্ববর্তী তোরাপগঞ্জ ইউনিয়ন,আন্ডারচর,মিয়ার রাস্তা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করছেন। বর্তমানে নদীর তীরবর্তী টেকসই বাঁধ না থাকায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন আরো তীব্র হচ্ছে।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আব্দুল মোমিন জানান, রামগতি ও কমলনগর এর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাধ নির্মাণ। ৩১ কি:মি: রামগতি ও কমলনগর এলাকার নদী রক্ষাবাধের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।রামগতি ও কমলনগরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলায় দায়িত্বরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফারুক আহাম্মেদ জানিয়েছেন, রামগতি ও কমলনগর এলাকার নদী রক্ষা বাঁধের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে দরপত্র আহবান করে শুকনো মৌসুমে কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া ভাঙনরোধে জরুরী ভিত্তিতে জিও বেগ ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সাংসদ মেজর(অব.)আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, রামগতি ও কমলনগরকে মেঘনা নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় ১জুন একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। জরুরী ভিত্তিতে অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ শুরু করা ও কাজে গুনগতমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়েনের জন্য জাতীয় সংসদে বিষয়টি বলেছে বলেও জানান তিনি।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন।