লক্ষ্মীপুরে মাদরাসা ছাএ বলাৎকারের অভিযোগ,অধ্যক্ষসহ শিক্ষক আটক

লক্ষ্মীপুরে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষসহ আটক-২

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১

বাম থেকে অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ ও শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ১০ বছর বয়সের এক মাদরাসার ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক মাসুম বিল্লাহসহ অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজার এলাকার তামরীন ইন্টারন্যাশনাল হিফযুল মাদরাসা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে তাদের।

এর আগে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই শিক্ষককে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়।আটককৃত আব্দুর রশিদ চন্দ্রগঞ্জ বাজার এলাকার তামরীন ইন্টারন্যাশনাল হিফযুল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও ভোলার বোরহান উদ্দিন থানা কাচিয়া ইউনিয়ন দক্ষিণ চকডোষ গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে।

এছাড়া অপর মাসুম বিল্লাহ একই প্রতিষ্ঠানের মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের ফেনুয়া গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে।

নির্যাতিত শিশুর মা মামলার এজহারে উল্লেখ করেন, তার সন্তান তামরীন ইন্টারন্যাশনাল হিফযুল মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। ধর্মীয় শিক্ষার জন্য মাদরাসার পরিচালনা কমিটির পরামর্শে আবাসিকের থেকে লেখা-পড়ার জন্য তিনি সেখানে দেন। বেশ কিছুদিন আবাসিককে থেকে লেখা-পড়া করলেও শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ খারাপ ও পঁচা কাজ করে উল্লেখ করে ওই ছাত্র তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা খুলে বলেন মায়ের নিকট।

মাদরাসা ছাত্রের মা আত্মীয়স্বজনদের সহযোগীতা নিয়ে মাদরাসা অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে এ ঘটনাটি অবহিত করেন। আব্দুর রশিদ ঘটনার কোনো তদন্ত না করেই মাদরাসার সুনাম ক্ষুন্ন হবে এমন ছাত্রকে মাদরাসায় লেখা-পড়া করতে দেয়া যাবেনা উল্লেখ করে পরদিন ছাত্রকে বেদম পিটিয়ে আটকে রাখে।

খবর পেয়ে শিশুর মা ও আত্মীয়স্বজন মাদ্রাসায় এসে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পুলিশ মামলার সত্যতা পেয়ে আব্দুর রশিদ ও মাসুম বিল্লাহকে আটক করেন।

মাদরাসা ছাত্রের মা আরও জানান,“তার ছেলের সঙ্গে শিক্ষকরা খুব খারাপ কাজ করেছে।তিনি ভাবতে পারছেন না এটা কিভাবে করতে পারলো। অধ্যক্ষ এ ঘটনার বিচার করলো না। উলটো অধ্যক্ষকে না জানিয়ে মায়ের নিকট কেন জানানো হলো তার জন্য ছেলেটিকেও পিটিয়ে জখম করেছে। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবী চেয়েছেন তিনি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি একে এম ফজলুল হক জানান, দশ বছরের এক মাদ্রাসার এক ছাত্রকে বলাৎকার আটকে রেখে মারধর করার পৃথক ঘটনায় নির্যাতিত শিশুটির মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শিক্ষক মাসুম বিল্লাহসহ অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।