লক্ষ্মীপুরে মেঘনার গর্ভে বসতভিটা

প্রকাশিত: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর ছোবলে নতুন করে আবারও তছনছ হয়ে নদী গর্ভে বসতভিটা তলিয়ে গেছে। ভাঙ্গনে ৩১ বছর ধরে জেলার সদর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ২৭ কি:মি: বেড়িবাঁধসহ ১২ হাজার হেক্টর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

প্রবল স্রোতে নতুন করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন, রামগতি উপজেলার বালুরচর, সুজন গ্রাম, বাংলাবাজার,আসলপাড়া,বড়খেরী,টাঙ্কীবাজার,কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি, চর ফলকন, সাহেবের হাট, পাটোয়ারীরহাট এলাকা’সহ তিনটি উপজেলা মেঘনায় ভাঙ্গছে।

ভাঙ্গনকবলীত নদী পাড়ের অসহায় মানুষগুলো বলছে, ’জীবিকা উপার্জনের শেষ সম্বল ফসলি জমিসহ নদী গর্ভে হারিয়ে মিলছেনা স্থায়ী ঠিকানা। মেঘনার ছোবলে তছনছ হয়ে যায় তাদের সহায় সম্বল নিঃস্ব হয়েছে শত পরিবার। ঠাঁই মেলে রাস্তার পাশে। কোনোভাবে খুপড়ি ঘরে গাদাগাদি করে দিনাতিপাত করছে তারা। এরকম দু’শতাধিকের বেশি পরিবারের জীবন উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়।

জানা গেছে, মেঘনা নদীর ভাঙ্গনে তলিয়ে গেছে ৩০ কি:মি: রাস্তাঘাট, মসজিদ, হাটবাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য স্থাপনা। নদী ভাঙ্গনরোধে ৩১ কিলোমিটার বাঁধ রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৩২ শত কোটি টাকা একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রাণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর একনেকে উঠবে। দ্রুত এ প্রকল্পটি পাশ হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসীর।

এদিকে, মেঘনা নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া হলেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভুক্তভোগীদের শনিরাহুর দশা যেন কাটছে না। এতে কাজের কাজ কিছুই করছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ৩টি উপজেলার অনেক স্থানে মেঘনার ভাঙ্গন শুরু হলেও শুধু কমলনগর উপজেলার লুদুয়া এলাকায় নদীর প্রবল স্রোত ভাঙ্গন ঠেকাতে নয়,পানি উন্নয়নবোর্ড কর্মর্তার খামখেয়ালিপনায় তাদের পকেট ভারী করতেই নদীর প্রবল স্রোতে বালু ভর্তি কয়েকটি টিউব ফেলে পুরো টাকা লুটপাট করছে।

লক্ষ্মীপুরে দায়িত্বরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফারুক আহাম্মেদ জানান, লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে মেঘনার ভাঙ্গন। ভাঙ্গন কবলিত এলাকা রক্ষা করা না গেলেও ভাঙ্গন কম হবে এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে শুধু কমলনগরে লুধুয়া এলাকায় নদীর স্রোত মাঝখানে সরিয়ে দেয়ার জন্য বালু ভর্তি টিউব ফেলার কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলছেন, ইতোমধ্যে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ৩১ কিলোমিটারের জন্য ৩২ শত কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি একনেকে অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।