লক্ষ্মীপুরে রহস্যজনক মৃত্যুর আড়াই মাস পর হত্যা মামলা দায়ের

লক্ষ্মীপুরে রহস্যজনক মৃত্যুর আড়াই মাস পর হত্যা মামলা দায়ের

প্রকাশিত: ৭:২২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে রিপন নামের ওই যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার আড়াই মাস পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের বোন নাজমা আক্তার।

এর আগে গত ৬ জুন নিজ বসতঘর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের চর আলী হাসান গ্রামের জয়নাল মোল্লা বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রিপন ওই এলাকার মৃত জালাল মোল্লার ছেলে ও স্থানীয় মুদি দোকানী।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মামলার বাদী নাজমা আক্তার জানান, সন্ত্রাসীরা তার ভাইকে হত্যা করে ঘরে রসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মর্মে প্রচারণা করে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করে।

এ ছাড়াও হত্যার ঘটনা সবার মুখ খুলতেই তারা তাদের ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে গত ২৩ আগস্ট মামলা করেছেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্তরা তাদের মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তারা হত্যার ঘটনা উৎঘাটনের জন্য মৃতদেহ উত্তোলন করে ঘটনা তদন্তের জন্য দাবি করেছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহারে সূত্রে জানাযায়, গত ৬ই জুন বেলা ১২ টার সময় মৃত রিপনের চাচা শাহ আলম মোল্লা (৩৫), কামরুল মোল্লা (৩০), চাচী সাবিনা আক্তার (২০), ফুফা হারুন মাঝি (৫২) ও ফুফু কদবানু (৪৫) রিপনের ঘর থেকে সন্দেহজনকভাবে বের হয়ে যায়। এর পরে রিপনকে মৃত উদ্ধার করা হয়।

মামলার স্বাক্ষী ফয়সাল হোসেন মৃত রিপনের ঘরে গিয়ে রিপনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় রিপনের মৃতদেহ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলানো এবং হাটুসহ নীচের অংশ খাটের সাথে লেগে ছিলো। পরে রিপনের মৃহদেহটি তার দাদা জয়নাল মোল্লা নামিয়ে আনে।

এ সময় মৃত রিপনের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহৃ দেখতে পায় বাড়ির লোকজন।মামলার এজাহারে বাদি মৃত রিপনের বোন দাবি করেন, সন্দেহজনক আসামীরা তার ভাইকে অর্থের লোভে হত্যা করে থাকতে পারে।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, বাড়ির সামনে রিপনের যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ছিলো সেখান থেকে দোকানের মালামালসহ প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার মালামাল খোঁড়া যায়।

রিপনের বোন অভিযোগ করেছন, রিপন মারা যাওয়ার পর সন্দেহভাজন আসামীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য মৃতদেহের ময়নাতদন্ত না করেই মৃত্যুর পরদিন ৭ জুন করব দেয়। ঘটনার সময় সন্দেহভাজনরা এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।পরবর্তীতে ঘটনার আালামত থেকে বোঝা যায় এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা।

অভিযোগ রয়েছে, রিপনের ঝুলন্ত মৃতদেহ নামানো পরে সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মৃতদেহ নিয়ে যায়। এরপরে রিপনের চাচা শাহআলম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল মোল্লা রিপনের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত না করার জন্য থানায় লিখিত আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাড়াতাড়ি মৃতদেহটি দাফন করার উদ্যোগ নেয় সন্দেহভাজন অভিযুক্তরা।

রিপনের পরিবারের অভিযোগ, রিপন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকতে পারে এমন ঘটনা জানার পর এ ব্যাপারে মামলার উদ্যোগ নিলে সন্দেভাজন অভিযুক্তরা রিপনের বোনদের বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সহযোগীতায় ও তাদের পরামর্শে আদালতে মামলা করেন রিপনের বোন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল জানান, রিপনের মৃত্যুটি হত্যা না আত্মহত্যা তা রহস্যময়। তাই এলাকাবাসীর সাথে একমত পোষণ করে রিপনের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানান।

তিনি বলেন, হত্যা মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হলেও মামলার বিবরণে সন্দেহজনক কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সকলে মৃত রিপনের আপন চাচা, ফুফা ও ফুফুসহ নিকট আত্মীয়।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান মিয়া বলেছেন, আদালত থেকে যে নির্দেশনা আসছে তার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।