লক্ষ্মীপুরে ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেয়া সেই শিক্ষক জামিন পেলেন

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২১

রায়পুর সংবাদদাতা: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ছয় ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া সেই মাদরাসা শিক্ষক মো: মঞ্জুরুল কবির মঞ্জুকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আটকের ১৪ দিন পর সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ফের আবেদন ও বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত তাকে জামিন দিয়েছে।

আসামির আইনজীবী মো: কামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মামলার বাদী শাহেদা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাদীর আপত্তি না থাকায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিকে, লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ইনস্পেক্টর দুলাল কিশোর মজুমদার জানিয়েছেন, গত ১০ অক্টোবর শিক্ষক মঞ্জুকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়পুর আদালতে উপস্থিত করে জামিন আবেদন করা হয়। ওইদিন আদালতের বিচারক তারেক আজিজ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া ১৪ দিন পর ফের আবেদন ও বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত তাকে জামিন দেন।

রায়পুর থানা পুলিশ ও মামলার এজহার সূত্রমতে, রায়পুর কাজির দিঘীরপাড় মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ১৮ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পাঠ্য কার্যক্রমে অংশ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির দশম শ্রেণির (দাখিল) ৬ জন ছাত্রকে দাঁড় করিয়ে শ্রেণিকক্ষের সামনের বারান্দা আসতে বলেন।

এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একটি কেচি এনে একে-একে সবার মাথার টুপি সরিয়ে সামনের অংশের চুল এলোমেলোভাবে কেটে দেন। পরে তারা লজ্জায় ক্লাস না করেই বেরিয়ে যায়। এ ঘটনার ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ৮ অক্টোবর সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখা যায়।

এরপর ৮ অক্টোবর (শুক্রবার) দিনগত রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শিক্ষক মঞ্জুকে উপজেলার ৭নং বামনী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীর পাড় এলাকা থেকে আটক করা হয়।

ওইদিন মধ্যরাতে মাদরাসা ছাত্র শাহাদাত হোসেনের মা শাহেদা বেগম বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন দমন আইনে চুল কাটার দায়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ৯ অক্টোবর সকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালত এর মাধ্যমে কারাগারে পাঠান মাদরাসা শিক্ষক মো: মঞ্জুরুল কবির মঞ্জুকে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির কাজির দিঘীরপাড় আলিম মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের আমির।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন।