লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক খানাখন্দে বেহাল দশা

লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক খানাখন্দে বেহাল দশা

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক। নিম্নমানের কাজসহ বালুবাহী ১০ চাকার ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি দেবে গেছে। এতে প্রতিদিনই ঘটছে বিভিন্ন দুর্ঘটনা।

এদিকে সড়কটিতে একটু বৃষ্টি হলেই ব্যস্ততম লক্ষ্মীপুর থেকে মজুচৌধুরীর হাট পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন আটকে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, বাড়ছে দুর্ভোগ।

এলাকাবাসী বলছেন, ব্যস্ততম লক্ষ্মীপুর -ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর থেকে মজুচৌধুরীর হাট পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দেবে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ৫ শতেরও বেশি খানাখন্দ। সড়কটি শিগগির মেরামত প্রয়োজন। তা না হলে ঈদে ঘরমুখো ২১ জেলার হাজার হাজার যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।

বিভিন্ন যানচালক যাত্রীসহ স্থানীয়রা সড়কটি স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবি জানালেও লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে বড় বড় গর্তে দেওয়া হচ্ছে মাটি ও চালকরা উদ্যোগ নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বিছিয়েছেন ইট।

চালকরা বলছেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সড়ক মেরামত না করায় তারা স্ব উদ্যোগে বালু ও মাটি দিয়ে সড়কটি কয়েকবার মেরামত করেছেন। তারপরও সেই মেরামত সড়কটি বৃষ্টিতে তা সরে আগের মতো বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে যাতায়াতে বেশি সময় লাগছে।

আর বৃষ্টির পানি জমে গর্তে জমা বৃষ্টির পানির ওপর দিয়ে ১০ চাকার বালুভর্তি গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কটির কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য বড় বড় মৃত্যু ফাঁদ।

স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়াল জানান, অবৈধ বালু পারিবহনে ভারি যানবাহন চলাচলে দেবে গেছে সড়ক। বালুভর্তি গাড়ি আটকে প্রায়ই লেগে থাকে যানজট। সড়কের পাশে বালু ফেলে রাখায় চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ধুলাবালুতে মানুষের দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে।

এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন পেশাশ্রেণির ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন লিখিত অভিযোগ দিলেও তা আমলে নিচ্ছে না প্রশাসন।

লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন,১৯ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং এই সড়কটি লক্ষ্মীপুর থেকে মজুচৌধুরীর হাট পর্যন্ত ১০.৫ কিঃ মিঃ (চার লেন) ৩৬ ফুট প্রশস্ত করার জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা টেন্ডার হয়েছে। তা মন্ত্রণালয়ে তুলনামুলক বিবরণী (চিএস) পাশ না হওয়ায কার্যাদেশ পাচ্ছেনা ঠিকাদার।

কার্যাদেশ না পাওয়ার কারনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করতে পারছেনা। এ সড়কটি বরিশাল, লায়েরহাট, ভেদরিয়া, ভোলা, ইলিশা, মজুচৌধুরীর হাট-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক (৮০৯) অনুমোদন হয়েছিলো। কিন্তু সড়কটির ওই অংশে কাজ চললেও লক্ষ্মীপুর অংশে কোনো কাজ হচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, এই সড়কটির গত বছর ১৯ ডিসেম্বর টেন্ডার হয়েছিলো, যার কারনে সড়কটি সংস্কার কাজ করা যাচ্ছেনা। সড়কটির টেন্ডার হওয়ার কারনে রিপেয়ারিংয়ের কোন টেন্ডার না হওয়ায় সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় যত দ্রুত সম্ভব (চিএস) পাশ হওয়ার পরই সড়কের কাজ শুরু করা যাবে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত জানান, লক্ষ্মীপুর থেকে মজুচৌধুরীর হাট পর্যন্ত ১০ কিমি সড়ক কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে আবার মেরামত করা হয়েছে। বালুভর্তি ১০ চাকার ভারী যানবাহন বন্ধ না থাকায় সড়ক আবার ভেঙে গেছে। এ বিষয়টি তিনি বেশ কয়েকবার মিটিংয়ে তুলেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি।

তিনি আরো জানান, লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি ৩টি প্যাকেজে বরিশাল থেকে একশত কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ হলে কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে সদর ইউএনও শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল জানান, মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় কয়েকটি বালুর স্তূপ করে কয়েকজন প্রভাবশালী বালুর ব্যবসা করছেন। এতে স্থানীয় কয়েকজনের সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বালুবাহী ভারী যানবাহন যাতায়াতে সড়ক দেবে গর্তের সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।