লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার তদন্ত চলছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে দেশটির একটি মিলিশিয়া গ্রুপ। শুধু তাই নয়, আরও ১১ বাংলাদেশি আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, ২৬ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। এমনকী আরও ১১ জন হাসপাতালে রয়েছে বলে জানতে পরেছি। তাদের মধ্যে একজন সুস্থ।

আমাদের একজন বাংলাদেশি জানিয়েছেন পাচারকারীরা ত্রিপলী থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে তাদের হত্যা করেছ। তিনি আরও বলেন, আমাদের বাংলাদেশ মিশন সেখানে যাবে। আমরা আরো খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছি।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত নয়টার দিকে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। হত্যার শিকার হওয়া বাকিরা আফ্রিকান।

এদিকে, লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহ নামের ওই এলাকায় কমপক্ষে ২৬ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়ান মিলিশিয়ারা গুলি করে হত্যা করার তথ্য পাওয়া গেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে দূতাবাস থেকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, লিবিয়ার এই মিলিশিয়া বাহিনী বাংলাদেশিদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালালে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশির সাথে টেলিফোনে যোগাযোগে সক্ষম হয় দূতাবাস।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাণে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি কোনো রকম প্রাণে বেঁচে বর্তমানে এক লিবিয়ানের আশ্রয়ে আছে আত্মগোপন।

তিনি দূতাবাসকে জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা তাদেরকে লিবিয়ার ত্রিপলী নামে শহরে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি মিজদাহ শহরে।

মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে জিম্মি হন। জিম্মি অবস্থায় তাদেরকে অত্যাচার, নির্যাতন করার এক পর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিরা মূল অপহরণকারী লিবিয়ান ব্যক্তিকে হত্যা করে। এর জের হিসেবে অন্য দুষ্কৃতিকারীরা আকস্মিক তাদের উপর এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করে।

এতে আনুমানিক ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়, যাদের লাশ মিজদাহ হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। অবশিষ্ট বাংলাদেশিরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মিজদাহ হাসপাতালের পরিচালক টেলিফোনে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানান, ওই মৃতদেহগুলো বর্তমানে মিজদাহ হাসপাতালের মর্গে পরিবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং উক্ত মৃতদেহ সমূহের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে দূতাবাসকে জানান।

এছাড়া ঘটনায় আহত আনুমানিক ১১ জন বাংলাদেশিকে জিনতান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অধিকতর উন্নত চিকিৎসার জন্য ত্রিপলী মেডিকেল সেন্টারে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ত্রিপলী মেডিকেল সেন্টারে পৌছার পর দূতাবাস হতে আহতদের সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনার বিশদ বিবরণ গ্রহণ করাসহ নিহতদের পরিচয় উদঘাটনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস জানায়, আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে দূতাবাস হতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। ইনকিলাব

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ