শামীম ওসমান

শামীম ওসমান ঝড়ের পূর্বাভাস দিলেন

প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় যেখানে উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে আমাদের মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটা কম। আমরা কী সামনে যে ধাক্কাটা আসছে সেটি সামাল দিতে পারবো? এ নিয়ে একটি ফর্মুলা রয়েছে, যা আমি পার্লামেন্টেও পেশ করবো।

প্রধানমন্ত্রী অনেক লড়াই করে দেশকে একটি পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। সেখানে এখন করোনা (কোভিড-১৯) নামক একটি ঝড় এসেছে। আমাদের অনেক কাজকে থামিয়ে দিয়েছে এই ঝড়। এখন সামাল দেওয়া গেলেও আমি ভয় পাচ্ছি আগামী ৩ মাস পর যে অর্থনৈতিক মন্দা আসবে সেটি নিয়ে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনে কক্ষে সামাজিক সংগঠন স্পিক আউটের পক্ষ থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত ক্রিকেট কোচ গাজী কাজী সাফাত শাওনের হাতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, সাবেক এআইজি মালিক খসরু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু, সাংবাদিক সুপন রায়সহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেন, আমাদের অনেক লোক, প্রায় ১ কোটি লোক যাকাত দেয়। এমনও লোক আছে যারা ৫ কোটি ১০ কোটি টাকাও যাকাত দেন। এভারেজে আমি ধরেছি ১ কোটি লোক যদি ৫ লক্ষ টাকা করে যাকাত দেয় তাহলে যাকাতের পরিমান দাঁড়ায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা অর্থাৎ আমাদের বাজেটের সমান। এটিকে ডলারে কনভার্ট করলে আসবে ৫ হাজার ৮শ ৭৬ লক্ষ ৫শ কোটি ডলার।

শামীম ওসমান আরো বলেন, যারা নৌকাকে ভোট দেয় না, আওয়ামী লীগকে দেখতে পারে না তারাও বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সাচ্চা ধার্মিক মানুষ। এই টাকাটি যাকাত ফান্ড করে সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হোক।

সেখানে দেশবরেণ্য প্রকৃত আলেম, অর্থনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কর্পোরেট হাউজ এবং শিল্পপতি, সকল দলের গণ্যমান্য রাজনীতিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিটিতে থাকবেন। দান করলে বলতে নেই, বললে ক্ষতি নেই, কারণ এতে অন্যরা উৎসাহিত হয়। এদের মাধ্যমে এই টাকা যথাযথ কাজে লাগানো হবে।

প্রথমে এ টাকা পাবেন ভূমিহীন ও কর্মহীন, যারা ভূমিহীন তাদেরকে বাসস্থান করে দেওয়া হবে এবং যারা কর্মহীন তাদেরকে বিভিন্ন অঞ্চলভেদে শিল্প প্রতিষ্ঠান করে সেখানে কর্মের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। বিভিন্নস্থানে শিল্প সেক্টর এ টাকায় গড়ে আমরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবো। পরে এই টাকা আমরা যুব সমাজকে দেব।

তারা প্রজেক্ট দেবে, আমরা বিবেচনা করে যাচাই করে তাদেরকে ঋণ দেব। যা হবে সুদমুক্ত। তারাও কাজ করে স্বাবলম্বী হবে। এরপর নিম্নবিত্ত পরিবার এটি পাবে। বিছিন্নভাবে করলে কিছুলোক হয়তো উপকার পাবে কিন্তু সামগ্রিকভাবে করলে আমরা অনেক কিছু করতে পারবো।

শামীম ওসমান বলেন, এ প্রজেক্ট হলে আগামী ৪ বছর পর দেশে যাকাত নেওয়ার মত লোক থাকবে না। অন্য ধর্মের জন্য দান থাকবে। বিভিন্ন ধর্মের অনেক লোক অনেক টাকা দান করেন। সেই টাকা একত্র করে তাদের ধর্মের লোকজনকে নিয়ে ধর্মগুরুসহ সবাইকে নিয়ে এ টাকাও কাজে লাগানো হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে দুর্নীতির বহুরূপ। সেগুলোর অনেক ডালপালা গজিয়েছে। এসব রোধে এখন থেকে আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবো, লড়াই করবো। জানি এতে আমার উপর আবার হামলা হবে, আমাকে আরো বড় গডফাদার বানানোর চেষ্টা হবে। কিন্তু আমি ভয় পাই না।

শামীম ওসমান বলেন, আমি একটি প্রোগ্রাম করতে গেলাম- যারা করোনায় মারা গেছেন তাদের জন্য দোয়া এবং যারা আক্রান্ত আছেন তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া। এজন্য আমাকে ৪/৫ বার ব্যানার বদলাতে হয়েছে। কারণ একবার ব্যানার হয় আর একজন করে মারা যান।

আমাদের অনেক সিনিয়র নেতা, এমপি মন্ত্রী মারা গেলেন, বাবুল ভাইও মারা গেলেন। তিনি ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে। আমার সাথে তার কথা হয়েছিল তিনি আমাকে বলেছিলেন ছোট ভাই চিন্তা করোনা অনেক ভালো একটি হাসপাতাল হচ্ছে দেশে। আমি সকলের রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।