শার্শায় অল্পবয়সী ছাত্রীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করল শিক্ষক, প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

এসএম স্বপন(যশোর)প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আফসানা মিম (১৬) নামে এক ছাত্রীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করায় একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক রাসেল আহম্মেদের (৩৬) বিরুদ্ধে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে অভিযোগ দায়ের করেছেন তার প্রথম স্ত্রী শাহনাজ পারভীন লিজা (২৭)।

অভিযুক্ত শিক্ষক রাসেল আহম্মেদ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কুল্লা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক (বিজ্ঞান) হিসাবে কর্মরত আছেন। তার ঘরে স্ত্রী রয়েছে। রাসেল আহম্মেদ আশরা তাসফিয়া হৃদিতা (০৯) নামে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই শিক্ষক মিম নামের স্কুছাত্রীর ক্লাস নেয়ার পাশাপাশি তাকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেই সুযোগে এই সুযোগসন্ধানী শিক্ষক রাসেল আহম্মেদ ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন প্রলোভনে তার সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এবং পরে লোক চক্ষুর অন্তরালে কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রথম স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে গোপনে চলতি বছর মার্চ-এর (২০২০ সাল) ১৭ তারিখে স্কুলছাত্রী মিমকে বিয়ে করেন।

এ বিষয়ে স্কুলছাএী মিমের চাচা আরিফুর রহমান জানান, রাসেল নামের ওই শিক্ষকের চরিত্র খুব একটা ভালো না। সে প্রায়ই সময় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে উত্ত্যক্ত করত। সে আমার অপ্রাপ্তবয়স্কা ভাতিজীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেছে বলে আরিফুর রহমান দাবি করেন। স্কুলছাএী ভাতিজীর বয়স কত জানতে চাইলে ১৬ বছর ১০ মাস ১৮ দিন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক রাসেল আহম্মেদের প্রথম স্ত্রী লিজা বলেন, গত ২০০৬ সালে রাসেল তাকে ভালবেসে বিয়ে করেন। আমাদের ঘরে একটি কন্যা সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করত রাসেল ও তার পরিবার।

এমতাবস্থায় রাসেলের চাকরি হয় শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এ সুবাদে রাসেল বিদ্যালয়ের অনেক মেয়ের সাথেই অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে রাসেলকে (স্বামী) কিছু জিজ্ঞাসা করলে আমাকে একাধিকবার মেয়ের সামনে শারীরিক নির্যাতন করত বলে দাবি করেন স্ত্রী লিজা।

লিজা জানান, আমাকে গ্রামে রেখে রাসেল নাভারনে ঘর ভাড়া করে সেখানে মিম নামের মেয়ের সাথে থাকতেন। এ বিষয়টি জানাজানি হলে সংসারে অশান্তির ভয়ে আমাকে সে বাসায় তোলে। সেখানেও একাধিক মেয়েকে পড়ানোর নামে নিয়ে আসত। এসব বিষয় তার পরিবার জানা সত্ত্বেও এবং বারংবার বলা স্বত্তেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বরং অভিযোগ করলে আমাকে নির্যাতন করত। তার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবসময় সাহস জুগিয়েছে রাসেলের খালা একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাসলিমা আক্তার ও তার পরিবার। তাসলিমা আক্তার এই সমস্ত বিষয়ে অবগত এবং তার সহযোগিতায় রাসেল এই অপকর্ম করে আসছে।

লিজা আরো জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে রাসেল মোটর সাইকেলে এক্সিডেন্টে রাসেলের (স্বামী) একটা পা ভেঙ্গে যায়। এই সুযোগে তার খালা তাসলিমা আক্তারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক’কে বুঝিয়ে বিদ্যালয়ের একটা রুমে ২৪ ঘন্টা থেকে প্রাইভেট ও ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করে।

এ নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলতো মিম সেখানে তার সাথে রাতে থাকত। অথচ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কেউ। নানা অযুহাতে সে আমাকে গ্রামের বা বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে মিমের সাথে রাত কাটাতো। আমার একটা মেয়ে, এখন এ অবস্থায় আমি আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তিনি নারীলোভী এই রাসেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাই সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে ভাল মানুষ হওয়ার জন্য। যেখানে যদি এমন একজন শিক্ষক থাকে, তাহলে মেয়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমরা এর আগেও তার নামে একাধিক মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে শুনেছি। এই রকম শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

শার্শা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানই গুলশান জানান, লিজার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষক রাসেল নিজের দোষ স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছেন ও ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান জানান, এ পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে, যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এমএএইচ