শার্শায় ইজারা বহির্ভূত ফলের বাজার, সরকার হারাচ্ছে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব

শার্শায় ইজারা বহির্ভূত ফলের বাজার!

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২১

এসএম স্বপন (বেনাপোল প্রতিনিধি): দক্ষিণ বঙ্গের যশোর শার্শার বাগুড়ী বেলতলা বৃহৎ পাইকারী ফলের বাজার ২০ বছর ধরে ইজারা বহির্ভূত থাকায় বছরে সরকার হারাচ্ছে প্রায় কোটি টাকা অংকের রাজস্ব।

বাজারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রটি বিভিন্ন ভাবে ফল চাষী ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। ফলে এ বাজারটি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর কর্তৃক ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করার দাবি উঠেছে স্থানীয় জনগণ, ফল চাষী ও ব্যবসায়ীদের।

যশোরেরর শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নে অবস্থিত বাগুড়ী বেলতলা বাজারে প্রায় ৪৫০০ হেক্টর জমির আম আমদানি হয়। এ আমের বাজার চলে তিন মাস ধরে।

এখানে আম কিনতে ঢাকা শরিয়তপুর চাপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েক হাজার পাইকারী ব্যবসায়ীরা আসে। প্রতিদিন এ বাজার থেকে প্রায় ১/২’শ ট্রাক আম লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় এবং ৩/৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়।

১২শ’ হেক্টর জমির কুল ও প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির পেয়ারা এ বাজারে আমদানি হয়। কুলের মৌসুমে বাজার চলে তিন মাস এবং এখান থেকে প্রতিদিন ৩০/৪০ ট্রাক কুল যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পেয়ারা প্রায় সব সময় চলে এবং লিচুসহ অন্যান্য ফল বেচাকেনা হয় এ বাজারে।

শার্শায় ইজারা বহির্ভূত ফলের বাজার, সরকার হারাচ্ছে প্রায় কোটি টাকা অংকের রাজস্ব।


বাজারে ২’শতাধিক বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। অভিযোগ আছে এখানে সিন্ডিকেট চক্রটি হাজারে ১০০ টাকা, ক্যারাট প্রতি ২৫ টাকা লেবার ও ট্রাক প্রতি ৩০০ টাকা কমিশন কাটে চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে। আবার ঔষধ স্প্রে বাবদ প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়েও নেয় টাকা। অস্বীকার করলে চক্রটি ভয়ভীতি’সহ নানা হুমকি ধামকিও দেয় সিন্ডিকেট চক্রটি।

বাজারটি আগে ক্ষুদ্র আকারে চালু হলে সরকারের নজর ছিল না এবং এখন তা বিরাট আকারে চললেও সরকারের দৃষ্টি পড়ে নাই। এবাজারে সিন্ডিকেট চক্রটি বিরাট অংকের লেনদেন করে থাকে। বাজারটি সরকার নিয়ন্ত্রণ করলে এখানে পাবলিক সিন্ডিকেট কোন ক্ষতি করতে পারবে না। বাজারটি সরকারি ইজারাভুক্ত হলে সরকার পাবে বিপুল অংকের রাজস্ব আর মুষ্টিমেয় সিন্ডিকেট চক্রের হাত থেকে রক্ষা পাবে চাষী ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে রানা ডাক্তার বলেছেন, দক্ষিণবঙ্গের যশোরের শার্শার বাগুড়ী বেলতলা ফলের বাজারটি প্রথম দিকে ক্ষুদ্র আকারে শুরু হলেও, এখন তা বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে গেছে। তাই সরকার বা প্রশাসনের এ বাজারের দিকে নজর দেয়া উচিৎ। তাহলে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে।

ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেছন, বাগুড়ী বেলতলা ফলের বাজারটিতে প্রতি বছর বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর ফল আসে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি তার ফল ভোগ করছে ২০ বছর যাবত। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে চাই সরকার এ বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করুক।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা বলেন, বাগআঁচড়া বাজার সংলগ্ন আমাদের প্রত্যেক বছর যেই সিজন্যাল আমের হাটটি বসে এ বিষয়ে আমরা স্থানীয় কিছু মানুষের আবেদন পেয়েছি। এটা যদি ইজারা দেওয়া হয় অথবা রাজস্ব আদায় করা হয়; সেক্ষেত্রে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসার একটি সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।