শার্শায় থামছেই না নির্বাচনী সহিংসতা!

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২১

এসএম স্বপন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শার্শা উপজেলায় কিছুতে থামছে না নির্বাচনী সহিংসতা।নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সহিংসতা যেন ততই বাড়ছে।

উপজেলার কোথাও না কোথাও প্রতিদিন-ই দেশিয় অস্ত্র, বোমা বা গুলাগুলি নিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।এতে করে ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে গোটা উপজেলা জুড়ে। কখনও নৌকা প্রতীক সমর্থকরা আক্রমণ করছে বিদ্রোহী প্রার্থী সমর্থক লোকজনের ওপর আবার কখনও বিদ্রোহী প্রার্থী সমর্থকরা আক্রমণ করছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের ওপর। উভয় পক্ষের সমর্থকদের হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এদিকে, প্রশাসনিকভাবে উভয় পক্ষকে থানায় ধরে এনে আর সহিংসতা ঘটাবে না, এমন মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও, ফিরে গিয়ে আবার তারা জড়িয়ে পড়ছে সংঘাতে।

সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচ ভুলোট দাখিল মাদরাসার সামনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রশিদ ও তবিরব রহমান সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গোগা ইউনিয়নের অগ্রভুলোট এলাকার ফজর আলী (৪০), আশরাফুল ইসলাম (৩০) ও রবিউল ইসলাম (৪০) আহত হন। এ সময় বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে ডিহি ইউনিয়নের পন্ডিতপুর গ্রামের শিশুতলার মোড় নামক স্থানে মোরগ মার্কা প্রতীকের মেম্বর প্রার্থী খানজাহান আলী ও তালা মার্কা প্রতীকের কামরুজ্জামান জজ মিয়ার কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।

উক্ত সংঘর্ষে কামরুজ্জামান জজ মিয়ার কর্মী সমর্থক পন্ডিতপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান (৪০), আমির আলী কবিরাজ (৬৫), জাকির হোসেন (৩৬), ইউসুফ (৩২), আনোয়ার (৫০), আলাল (৩২), চন্দ্রপুর গ্রামের আনসার আলী (৫৫), তরিকুল ইসলাম’সহ (২৬) ১৫ জন খানজাহান আলীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে পন্ডিতপুর গ্রামের রুবেল (৩৫), আ. হালিম (৫৫), খলিশাখালী গ্রামের মিশির (৫৬) সজিব (২৫), জয়নাল (৪০), শাহিন আলম (৫০), চন্দ্রপুর গ্রামের মনির হোসেন মধু (৩৭) আহত হন। সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

২৩ অক্টোবর গোগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী তবিবর রহমানের মনোনয়ন নিতে তার সমর্থকরা যশোর যান। বাড়ি ফেরার পথে গোগা বাজারে আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান এর সমর্থকরা তবিবর রহমানের সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে ১২ জন আহত হন। আহত ১২ জনের মধ্যে আলী ফকির ১২ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে মারা যান।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ জনতা জানিয়েছেন, ২৮ নভেম্বর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে সংঘর্ষ বেড়ে চলেছে, তাতে করে নির্বাচন আসা পর্যন্ত কি হবে বলা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে শার্শা উপজেলা রণক্ষেত্রে পরিনত হবে। তাই তারা পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে ও কঠোর হস্তে দমন করার আহবান জানান।

 

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন।