শেষমেশ চেহারা দেখালেন তালেবানের ‘রহস্যময়’ মুখপাত্র

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২১

দীর্ঘ দু’দশক আন্তর্জাতিক সেনা ও আফগানিস্তান সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়েছে তালেবান। এ সময়ে তালেবানের বিভিন্ন বিবৃতি দেয়া ও ফোনে সাংবাদিকদের হাজারও প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তালেবান মুখপাত্র। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তার চেহারা কেউ দেখেননি। তবে এতদিন পর সামনে এসেছেন তিনি।

অনেক সাংবাদিক মনে করতেন যে, তালেবানের মুখপাত্র একজন নন অনেকজন। তবে অবশেষে ক্যামেরার সামনে এসে কথা বলেছেন তিনি। তার চেহারা ও কথাবার্তায় অবাক হয়েছেন সাংবাদিকরা।

বছরের পর বছর সাংবাদিকরা ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শুধু কণ্ঠস্বর শুনেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার যখন তালেবানের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি হাজির হন তখন তার আগের কথাবার্তা ও এদিনের কথাবার্তায় ব্যাপক পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন তারা।

বিবিসির সাংবাদিক ইয়ালদা হাকিম বলেন, একজন পুরুষের মুখ দেখে তিনি ‘হতবাক’ হয়ে গিয়েছিলেন। যার সঙ্গে তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কথা বলেছিলেন।

হতবাক হওয়ার বিষয়ে ইয়ালদা হাকিম বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে তালেবান মুখপাত্র অনেক কঠিন কঠিন বিবৃতি দিতেন। তার কথাবার্তায় ছিল অনেক কঠিন কঠিন ভাষা। তবে মঙ্গলবার তিনি যেভাবে শান্ত ভাষায় কথা বলেছেন তা তাকে অবাক করেছে।

এতদিনের বিবৃতিতে তালেবান মুখপাত্র লিখেছেন- তারা আমেরিকানদের রক্ত নিতে দ্বিধা করবে না। আফগান সরকারকে উৎখাত করতে সবকিছুই তারা করবে।

অথচ কাবুল জয়ের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন যে, কোনো প্রতিশোধ নেয়া হবে না। বহু বছর ধরে তিনি রক্তপিপাসু বিবৃতি পাঠিয়েছেন। এখন তিনি হঠাৎ শান্তিপ্রিয়? এটার তুলনা করা কঠিন।

এদিনের সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ সেই আসনে বসে ছিলেন, যেখানে কয়েকদিন আগেও আফগানিস্তানের মিডিয়া এবং তথ্য কেন্দ্রের পরিচালক দাওয়া খান মেনাপাল বসতেন। এই মাসের শুরুতে তালেবানের হামলায় তিনি নিহত হন। সেসময় মুজাহিদ স্বীকার করেছিলেন যে, দাওয়া খান একটি বিশেষ হামলায় নিহত হয়েছেন।

বিবিসির প্রবীণ সাংবাদিক জন সিম্পসনসহ অন্যান্য অনেক সাংবাদিক মুজাহিদকে দেখার পর টুইট করে জানিয়েছেন যে, তিনি অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী এবং মনোরম মানুষ। কেউ কেউ বলেছেন, মঙ্গলবার ক্যামেরার সামনে আসা ব্যক্তিটি খুব কম বয়সী, যিনি এতদিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক শরীফ হাসান টুইটবার্তায় বলেন, তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ- যিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘানির মুখপাত্রের পুরো দলের চেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়াশীল এবং সক্রিয় ছিলেন। আমি তার সাথে কথা বলেছি এবং তাকে অনেক টেক্সট করেছি। কিন্তু এই প্রথম আমি তার মুখ দেখছি।

তালেবানের রহস্যময় মুখপাত্র আসলে একাধিক ব্যক্তি হতে পারে কিনা তা নিয়েও বহু বছর ধরে জল্পনা চলছিল। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লাইস ডাউসেট বলেন, এই আলোচনাগুলো সামাজিক মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই চলছিল।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন