সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সহজকরণ করে গেজেট প্রকাশ

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সহজকরণ করে গেজেট প্রকাশ

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

অবসরে যাওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের ভোগান্তি কমাতে পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০ আবারও গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি কমাতে ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেনশনভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশনের অর্থ দেয়া হবে উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০ জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এ সুবিধা পেতে নতুন করে বেশকিছু কাগজপত্র জমা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এসব ফরম ও কাগজপত্র অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। গত ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন পরিপত্রটিকে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আবারও গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০’ এর ৪.০৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর নিজের এবং তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পারিবারিক পেনশন প্রাপ্তির আবেদনের নিমিত্তে পেনশন আবেদন ফরম, সনদ ও কাগজপত্র সংশোধিত আকারে প্রণয়ন করা হয়েছে।

এগুলো হচ্ছে- প্রত্যাশিত শেষ বেতনপত্র (ইএলপিসি) (সংযোজনী-১), প্রাপ্তব্য পেনশনের বৈধ উত্তরাধিকারী ঘোষণাপত্র (সংযোজনী-২), উত্তরাধিকার সনদপত্র ও নন-ম্যারিজ সাটিফিকেট (সংযোজনী- ৩), পেনশন ফরম ২.১ (সংযোজনী- ৪), পারিবারিক পেনশন ফরম ২.২ (সংযোজনী- ৫), নমুনা স্বাক্ষর ও হাতের পাঁচ আঙুলের ছাপ (সংযোজনী-৬), আনুতোষিক ও অবসরভাতা উত্তোলন করার জন্য ক্ষমতা অর্পণ ও অভিভাবক মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র (সংযোজনী-৭) এবং না-দাবি প্রত্যয়নপত্র (সংযোজনী-৮)।

এ আট ধরনের ফরম, সনদ ও কাগজপত্রাদির মুদ্রণ প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে এসব ফরম, সনদ ও কাগজপত্র অর্থ বিভাগ (ওয়েবসাইট) থেকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে হবে। এ অবস্থায় ‘সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০’- এ সংযোজিত উল্লিখিত ফরম, সনদ ও কাগজপত্র পেনশন আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশে বলা হয়েছে, অবসরগ্রহণের আগে ইএলপিসি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। ওই আবেদনে প্রাপ্য ছুটি, ছুটি নগদায়ন, ভবিষ্যৎ তহবিলের স্থিতি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

এই আবেদন পাওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। বিশেষ করে সরকারের আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে আদায়ের ব্যবস্থা করবে। এ প্রক্রিয়ার পর তিন মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ অবসরোত্তর ছুটি, ছুটি নগদায়ন ও পেনশন মঞ্জুরিপত্র জারি করবেন।

সেখানে বলা হয়, ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ পাওয়ার পর বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেনশন ভোগীর ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা চলে যাবে।

পেনশন মঞ্জুরির কাগজপত্র প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পেনশন নির্ণয়-সংক্রান্ত হিসাব যথাযথভাবে যাচাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস পেনশন পরিশোধ আদেশ (পিপিও) জারি করা হবে। আনুতোষিকের টাকার চেক বা ইএফটি পিআরএল শেষ হওয়ার পর দিন চূড়ান্ত অবসরগ্রহণের দিন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিকট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুত্তোলিত পেনশন এবং বকেয়া পেনশনের ক্ষেত্রে সাত কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তিকরণ : ইএফটি জেনারেট করতে হইবে। অডিট আপত্তি থাকিলে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে। চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের এক বৎসরের মধ্যে বিভাগীয় মামলা থাকলে নিষ্পত্তি করিতে হইবে। প্রতি মাসের পেনশন পরবর্তী মাসের এক তারিখে পেনশনারের ইএফটির মাধ্যমে তাহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করতে হবে।

এছাড়া পেনশন সংক্রান্ত সব ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বদলিতে এলপিসি ইলেকট্রনিক্যালি পূরণ করতে হবে এবং অনলাইনে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সরকারি কর্মচারী পিআরএলে যাওয়ার তিন বছর আগের কোনো কাগজপত্র, রেকর্ড বা না-দাবি প্রত্যয়নপত্র তার কাছে চাওয়া যাবে না।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।