সেই ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হয়নি

সেই ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হয়নি

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

চকরিয়া উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে মা ও তার দুই মেয়েসহ পাঁচজনকে নির্যাতনের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত স্থানীয় চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরানকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যানসহ জড়িত অনেকে পলাতক আছেন। তবে রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে গরুচুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েকে গতকাল সোমবার জামিনে মুক্তি দিয়েছেন চকরিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজীব কুমার। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন-

মা পারভীন আক্তার, মেয়ে সেলিনা আক্তার ও রোজিনা আক্তার। সিনিয়র আইনজীবী ইলিয়াস আলী তাদের জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

অন্য দুই আসামির জামিন হয়নি। তারা হলেন- পারভীন আক্তারের ছেলে মোহাম্মদ আরমান ও তাদের আত্নীয় পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ ছুট্টু।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, নির্যাতনের শিকার নারীদের পক্ষ থেকে কেউ এখনো মামলা করেনি। তারা মামলা করতে এলে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

রোববার রাতে আটক ব্যক্তিরা হলো- চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের বৃন্দাবনখিল গ্রামের এমদাদ হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন ও নির্যাতনের শিকার নারীদের বিরুদ্ধে গরু চুরি মামলার বাদি মাহবুবুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম ও জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন।

চকরিয়া থানার ওসি জানান, আটক ব্যক্তিদের সোমবার চকরিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনায় রোববার স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা রেকর্ড করেন চকরিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আদালত।

পরে চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মতিউল ইসলামকে ঘটনার তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী মামলায় জড়িতদের নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শ্রাবস্তি রায়।

এ ছাড়া রোববার চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছেন। গত শুক্রবার হারবাং ইউনিয়নের বৃন্দাবনখিল গ্রামের কিছু লোক গরু চুরির অভিযোগ এনে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে নির্যাতন করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।

সেখানে চেয়ারম্যান মিরান তাদের মারধর করে পুলিশে দেন। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাতেই এক ব্যক্তি মামলা করেন। পরদিন শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।