স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ

প্রকাশিত: ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

করোনারভাইরাসের বিস্তারের মধ্যে সবকিছু খুলে দেয়ার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি। শারীরিক দূরত্ব না মেনেই লঞ্চে গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীরা। ট্রেনের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, ট্রেনে ওঠানামায় শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।

এদিকে পাড়া-মহল্লা ও হাটে-বাজারে বাড়ছে লোকসমাগম। শিল্প এলাকাগুলোতে শ্রমিকেরা তিন ফুট দূরত্ব বজায় না রেখে মিলেমিশে যাতায়াত করছেন। সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশেও তাপমাত্রা পরিমাপ যন্ত্র বা জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা নেই। তাই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু এসব পরামর্শ মানছেন না অনেক যাত্রী।

বিশেষ করে যেসব লঞ্চের ডেকে চেয়ার রয়েছে সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই একটি আসন ফাঁকা রেখে অন্য আসনে যাত্রী বসতে দেখা যায়নি। বরং দেখা গেছে পাশাপাশি যাত্রীদের বসতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মো. আলমগীর বলেন, কয়েকটি রুটে যাত্রী বেশি হওয়ায় ডেকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করেছেন। তবে সেই সংখ্যা খুবই কম। আমরা যাত্রীদের সচেতন করেছি। কিন্তু অনেক যাত্রী তা মানতে নারাজ।

এদিকে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জেলা মানুষের চলাচল বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে শারীরিক দূরত্ব বজায় না রাখা, মাস্ক না পরার প্রবণতাও। রাজধানীর ফার্মগেট, মহাখালী, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্টপেজে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, বাসে ওঠার সময় বেশিরভাগ গাড়িতেই যাত্রীর তাপমাত্রা পরিমাপ এবং জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে না।

এছাড়া বাসের হেলপার প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে গায়ে হাত দিয়ে দিয়ে যাত্রী তুলছেন। তাদের হাতে গ্লাভস নেই, অনেকের মুখে নেই মাস্কও। ফার্মগেটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, বাসের হেলপার প্রবেশ পথে না দাঁড়িয়ে দরজার সামনে প্রথম সিটে বসলে ভালো হতো।

এতে শারীরিক দূরত্ব তৈরি হতো। অথচ হেলপার প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে স্পর্শ করছে। তাই এভাবে গণপরিবহনের মাধ্যমে বিস্তার ঘটবে করোনার। ঢাকা মহাখালীতে কামাল মজুমদার নামে এক যাত্রী বলেন, এক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী বসানো হলেও অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না পরিবহনগুলো। অবশ্য কিছু কিছু পরিবহনে দেখা গেছে, হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহারসহ কিছু বিধি মানতে।

বলাকা, তুরাগ, বিহঙ্গ, রাইদা, শিকড়, ৯ নং মতিঝিল ও এয়ারপোর্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিবহনে দেখা যায়, শুধু আসনে বসার সময় শারীরিক দূরত্ব মানা ছাড়া অন্য সব স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। তবে অধিকাংশ যাত্রী মাস্ক পরে বাসে উঠছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আবদুর রাজ্জাক বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিটি বাস স্টপেজে মাইকিং করা হচ্ছে। এরপরও যদি কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলেন, তবে তিনি নিজেই ঝুঁকিতে পড়বেন। এবং হেলপারদের আচরণ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, আমরা পরিবহন মালিকদের বলে দিয়েছি, সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।

কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে থাকেন তবে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে বেলা বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়ও। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই মানছেন না শারীরিক দূরত্ব। শেওড়াপাড়া কাঁচাবাজারে কথা হয় সানজিদা বেগম নামে এক নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, কিছু টুকিটাকি বাজার করতে আসলাম।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, চেষ্টা করছি। তবে বাজারের যে অবস্থা সেটা কতক্ষণ মেনে চলা যাবে সেটা বলতে পারব না। একই অবস্থা ঢাকা কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, যাত্রাবাড়ীসহ বড় বড় বাজারেও। প্রায় প্রত্যেক জায়গায় মানুষের ভিড়। এদিকে বেশিরভাগ বাসে দুই আসনের একটি ফাঁকা ছিল।

তবে সকালে অফিস শুরুর আগে বেশ কয়েকটি বাসে এ নিয়ম না মেনে যাত্রী বহন করা হয়। সায়েদাবাদ,যাত্রাবাড়ী, মিরপুর রুটে এমন চিত্র দেখা গেছে ও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন যাত্রীরা। শ্যামলীতে ৮ নং বাসের যাত্রী নূর আহমেদ বলেন, মাজার রোড থেকে ফার্মগেট আগে ১৫ টাকা ভাড়া নিলেও এখন ৩০ টাকা আদায় করছে।

আরেক যাত্রী রফিকউল্যাহ বলেন, কাকলী থেকে ফার্মগেট ভাড়া আগে ১০ টাকা নিলেও এখন দ্বিগুণ ২০ টাকা নিচ্ছে। অফিস সময়ে অতিরিক্ত যাত্রীও বহন করছে।

ফতুল্লায় বিসিকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত : আমাদের ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ফতুল্লায় শিল্পাঞ্চল বিসিক এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে লক্ষাধিক শ্রমিক। কাজে আসা-যাওয়ার পথে একজন অন্য জনের সঙ্গে ঘেঁষে ধাক্কাধাক্কি করে চলতে দেখা যায়।

তাদের মধ্যে নেই সচেতনতাও। অনেকে হাত না ধুয়েই কারখানায় ঢুকছে। নেই হ্যান্ডস্যানেটাইজারও। শ্রমিকরা নিম্নমানের মাস্ক ব্যবহার করলেও দেয়া হয়নি হাতে গ্লাভস। ফটকের সামনে শ্রমিকদের ভিড় লেগেই থাকছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক বলেন, সকাল-বিকাল শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মাইকিং করে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। আক্রান্তদের বাড়িও লকডাউন করে দিচ্ছি।

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ