হাইাকার্টে নির্দেশ মানছে না ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি

প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

ভৈরব সংবাদদাতা: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হাওরাঞ্চল মাইজচর ইউনিয়নের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে ক্ষমতার দাপট আর দ্বন্ধ। এর ফলে বাহেরবালী (এসইএসডিপি) মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেমকে মিথ্যা অভিযোগে বহিষ্কার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।

অবশেষে অবৈধ বহিষ্কার আদেশের বিরুদ্ধে দেশের উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) রিট পিটিশন দাখিল করে প্রধান শিক্ষক। ফলে গেল ৬ জুন হাইকোর্ট প্রধান শিক্ষক এম এ কাসেমকে বরখাস্তকরণ বিধি সম্মত হয়নি বলে জানিয়ে বিষয়টি সমাধানপূর্বক ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহাল করে শিক্ষাবোর্ডকে অবহিত করার জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি আঃ বাছির মিয়াকে নির্দেশ দেন।

কিন্তু ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে উল্টো প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

জানাগেছে, যোগাযোগ বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে শিক্ষার মান উন্নয়নে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) অর্থয়ানে ২০১১ সালে বাহেরাবলী (এসইএসডিপি) মডেল উচ্চ বিদ্যালয় নির্মিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যায় প্রায় ৩‘শ। আর শিক্ষকের সংখ্যা ৭জন।

প্রথম দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ফান্ডের অভাবে গতি না পেলেও ২০১৭ সালে এমপিও ভূক্ত হবার পর থেকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে শিক্ষার মান। স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে জন্য কোন সড়ক না থাকার কারণে একটি মাত্র নৌকাই আসা-যাওয়ার মাধ্যম।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নির্মাণে এবং হাওরাঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নে স্থানীয় এমপি কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আফজাল হোসেনের রয়েছে বিশেষ অবদান।

এছাড়াও শিক্ষার্র্থীদের অবাদ যাতায়াত ও সুবিধার জন্য আরও দু’টি নৌকাসহ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে জনপ্রিয় টেলিভিশন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদী’ থেকে কেয়া কসমেটিকের সৌজন্যে ১০ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়। একই সাথে জেলা প্রসাশকের পক্ষ থেকেও আরও ২ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়।

এরপরেই প্রধান শিক্ষক এম. এ কাসেমের সাথে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ বাছির মিয়ার দ্বন্ধ শুরু হয়। হঠাৎ ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক এম. এ কাসেমকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে সাময়িক বহিষ্কার করেন ম্যানেজিং কমিটি।

পরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্তে সত্যতা খুঁজে পায়নি কিশোরগঞ্জ জেলা ও বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসন। অবশেষে প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির অবৈধ বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক এম. এ কাসেম হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ বাছির মিয়ার মনগড়া কথায় এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের সাথে সহমত পোষণ না করায় মিথ্যা অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয় বলে জানায়, বাহেরবালী (এসইএসডিপি) মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. এ কাসেম।

তিনি আরও জানান, অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্তে কোন প্রকার সত্যতা খুঁজে পায়নি কিশোরগঞ্জ জেলা ও বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসন।

এরপরও কোন সুরাহা না পেয়ে অবশেষে আমি দেশের উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে হাইকোর্ট গেল ৬ জুন হাইকোর্ট বরখাস্তকরণ বিধি সম্মত হয়নি বলে জানিয়ে স্ব-পদে বহাল করে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করার জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি আঃ বাছির মিয়াকে নির্দেশ দেন।

কিন্তু ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে উল্টো আরও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আমাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানায়, এলাকার নানা অপকর্মের হোতা আ: বাছির মাইজচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ফলে তিনি র্দীঘ দিন ধরে ক্ষমতার অপব্যহার করে পায়দা লুটছেন। এ কারণে তার নজড় পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও।

বিশেষ করে দেশের জনপ্রিয় বিটিভি’র ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদী’ থেকে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকার চেক পাওয়ায় পর থেকেই প্রধান শিক্ষকের সাথে সভাপতির অমিল দেখা দেয়। আর প্রধান শিক্ষকের কারণে সুবিধা করতে না পারায় তাকে অবৈধভাবে বহিষ্কার করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে বাহেরবালী (এসইএসডিপি) মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও মাইজচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আ: বাছির জানান, বহিষ্কারস্কৃত প্রধান শিক্ষক এম. এ কাসেম একজন লোভী এবং দুঃশ্চরিত্রের মানুষ। আমরা তাকে সর্তক করলেও তিনি আমলে নেননি।
ফলে ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

পরে আমরা জানতে পারি তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছেন। কিন্তু আমরা কোন চিঠি পায়নি। যখন শুনি তাকে স্ব-পদে বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সাথে সাথে আমরা হাইকোর্টে আপীল করেছি। এখনও আপীল শুনানী হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী মুঠোফোনে জানান, জেলা প্রশাসনের গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে জানতে পারেন, ম্যানেজিং কমিটি যে নিয়মে প্রধান শিক্ষক এম. এ কাসেমকে বহিষ্কার করেছেন। তা যথাযথ নিয়মে বা বিধি অনুযায়ী হয়নি।

ফলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড তাকে স্ব-পদে বহালের নির্দেশ দেয়। একই সাথে প্রধান শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করলেও মহামান্য হাইকোর্টও তাকে স্ব-পদে বহাল এবং যোগদানের জন্য নির্দেশ দেয়।

এরপরও যদি ম্যানেজিং কমিটি বা অন্য কেউ বাধাঁ অথবা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভুলুয়াবিডি/এএইচ