১৯৮৮ সালের পর এবারের বন্যা হবে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী: জাতিসংঘ

১৯৮৮ সালের পর এবারের বন্যা হবে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী: জাতিসংঘ

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

১৯৮৮ সালের পর বাংলাদেশে এ বছরের বন্যা সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। দেশে বন্যার পানি এখনও বাড়ছেই, তা আগামী মাসের আগে কমবে এমন সম্ভাবনাও কম।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ওসিএইচএ জানিয়েছে, বন্যায় এখন পর্যন্ত দেশের ১৮টি জেলায় ২৪ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়ে সরকারি আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে ৫৬ হাজার মানুষ। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫৪ জনের।

এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বাড়িঘর ডুবে গেছে। বাঁধ ও বাঁধের মতো সুরক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘ এবং মানবিক অংশীদাররা জরুরি খাবার প্যাকেট, পানি পরিশোধন সুবিধা, স্বাস্থ্যবিধি ও ডিগনিটি কিট এবং জরুরি আশ্রয়ের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের প্রচেষ্টায় সমর্থন দিচ্ছে।

সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য সম্প্রতি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাগুলোকে প্রাথমিকভাবে ৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের তহবিল দিয়েছে ইউএন সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশের ২০টি জেলার ৯৮ উপজেলার ৬০৩ ইউনিয়ন বন্যা উপদ্রুত। জেলাগুলো হচ্ছে-

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, ফেনী, শরীয়তপুর, ঢাকা ও নওগাঁ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে। এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। আমরা প্রতিদিন অল্প অল্প করে হিসাব করছি। প্রতিদিন সেটি আপডেট করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী প্রথম পর্যায়ের ফসলের ক্ষয়ক্ষতির একটা হিসাব দিয়েছেন। কিন্তু সেটি চূড়ান্ত নয়। এখন আবার নতুন করে পানি বাড়ছে। আমরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয়কেন্দ্র, বরাদ্দ নিয়ে এখন ব্যস্ত। পাশাপাশি কিছু কিছু হিসাব নেওয়া হচ্ছে। তবে এখন চূড়ান্তভাবে কিছু বলার সময় এখনও আসেনি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল ১৭টি নদীর পানি ২৮টি পয়েন্টে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

আগামী ২৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

এতে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধরলা, তিস্তা ও মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদনদীগুলোয় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া ঢাকার আশপাশের নদনদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।

এদিকে বন্যার পানি আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো পানিবন্দি মানুষ। বন্যাদুর্গত এলাকায় তলিয়ে গেছে স্কুল, হাটবাজার, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা।

অনেকে কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করছেন। অধিকাংশ জায়গায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। বাড়ছে রোগ-ব্যাধি। দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের তীব্র সংকট। সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও কোথাও ত্রাণ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।