২৬ বাংলাদেশী হত্যা ও মানবপাচারের রহস্য উদঘাটন

প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি হত্যা ও মানবপাচারের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো -বাদশা মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আকবর আলী, সুজন, নাজমুল হাসান এবং লিয়াকত শেখ ওরফে লিপু।

আজ সোমবার (৮ জুন) ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে ব্রিফিংকালে ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন বলেছেন, মানব পাচারের ঘটনায় ভিকটিমদেরকে ভারত, দুবাইসহ মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার করার পরিকল্পনা, প্রক্রিয়া করা।

পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে বিমানবন্দর, ঢাকাকে ব্যবহার করার কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দায়েরকৃত মামলা সমূহের ছায়া তদন্ত শুরু করে। এ সময় তাদের হেফাজত হতে চারটি পাসপোর্ট, দুইটি মোবাইল ফোন ও টাকার হিসাব সম্মলিত দুইটি নোট বুক উদ্ধার করা হয়।

বাতেন আরো বলেন, গত ৭ জুন, গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতারর করে। ২৮ মে, লিবিয়ার মিসদাহ উপ-শহরের মরুভূমিতে ২৬ জন বাংলাদেশী গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশের এই কমকর্তা বলেন, মারাত্বকভাবে আহত করা হয় আরো ১১ জনকে। লিবিয়া এবং ইটালিতে অভিবাসী হতে যাওয়া শত শত বাংলাদেশী বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনে আহত, নিহত ও  চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন।

এ ঘটনায় ভিকটিমদের আত্মীয় স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদারীপুর জেলা, কিশোরগঞ্জ জেলা, ডিএমপি এর পল্টন ও তেজগাঁও পৃথক থানায় মামলা রুজু হয়।

তিনি বলেন, লিবিয়ার বিভিন্ন এস্টেটে কাজ ও লিবিয়া হতে ইউরোপ বিভিন্ন দেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি দালালরা অন অ্যারাইভাল ও ভিজিট ভিসার মাধ্যমে এসব লোকজনকে লিবিয়ায় পাচার করে। লিবিয়ায় পাচার করে ভিকটিমদের লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রেখে তাদের অমানুষিক শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে।

বাতেন বলেন, নির্যাতিত ভিকটিমদের কান্নাকাটি, আকুতি মিনতি করা অডিও অথবা সরাসরি মোবাইলে কথাবার্তা বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনদেরকে পাঠায় ও টাকা দাবি করে।

ভিকটিমদের বাচাঁতে তার আত্মীয়-স্বজন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিটাবাড়ি বিক্রি করে টাকা পাঠায়।

এদিকে নিহত মাদারীপুরের ৭ জনকে বাংলাদেশ হতে লিবিয়াতে আমির হোসেনের কাছে পাচার করেছিল তার ভাই গ্রেপ্তাররকৃত আকবর হোসেন। গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া ১৩ বছর যাবৎ লিবিয়াতে অবস্থান করে। লিবিয়ার বেনগাজী, জোয়ারা শহরে তার নিজস্ব ক্যাম্প আছে।

সমগ্র বাংলাদেশ থেকে সে নিয়মিত লিবিয়াতে মানব পাচার করে, পাচারকৃত বাংলাদেশীদেরকে তার ক্যাম্পে আটক রেখে ইটালিতে সমুদ্রপথে মানুষ পাঠানোর গ্যামব্লিং করে। মাদারীপুরের নিহতদের মধ্যে ৪ জনকে তার ক্যাম্পে আটক রেখে ত্রিপোলীতে পাচার করার এক পর্যায়ে এসব হত্যাকান্ড ঘটে।

আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলম ঢাকাতে অবস্থান করে নিজস্ব কায়দায় বেনগাজিতে মানব পাচার ছাড়াও স্থানীয় অন্যান্য দালালদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পাসপোর্টগুলো স্ক্যান করে সফট কপি দুবাই ও লিবিয়াতে প্রেরণ করে টুরিস্ট ভিসা, অন অ্যারাইভাল মোয়াফাকা সংগ্রহ করে, বেনগাজিস্থ ক্যাম্পে নির্ধারণ করে।

গ্রেফতারকৃত সুজন ভিকটিম ইছার উদ্দিন, বিজয় ও মো. সজলদেরকে লিবিয়ায় পাঠায়। ২৮ মে লিবিয়ায় ট্র্যাজিডি ভিকটিম মো. সজল আহত হয়ে লিবিয়ায় এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। নিখোঁজ মো. বিজয়-ইছার উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তারকৃতদেরকে পল্টন থানা ও তেজগাঁও থানায় মানব পাচার ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে রুজুকৃত মামলায়  বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কমকর্তা। নিউজজি

 

ভুলুয়া বাংলাদেশ/এএইচ