নোয়াখালীতে মা খুন, বাবা কারাগারে,তিন শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়

নোয়াখালীতে মা খুন, বাবা কারাগারে,তিন শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায়

প্রকাশিত: ২:২৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

বুরহান উদ্দিন (নোয়াখালী প্রতিনিধি): নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূ কামরুন্নাহার পান্না হত্যায় স্বামী আমিরুল ইসলাম আমিরকে গ্রেফতার ও হয়রানি করার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত খুনির গ্রেফতারের দাবীতে মা রহিমা খাতুন সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে তার নিজ বাড়ীতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে রহিমা খাতুন লিখিত বক্তব্যে বলেন, বারো বছর আগে নুরুন্নাহার পান্নার সাথে আমার ছেলে আমিরুল ইসলাম আমিরের বিয়ে হয়।

দাম্পত্য জীবনে তাদের আবির, অহনা এবং মোহনা নামে তিনজন সন্তান রয়েছে। গত দুই-তিন বছর ধরে পার্শ্ববর্তী মৌলভী মখলেছের বাড়ী’র আবুল কালামের ছেলে বাবুল পান্নাকে পরকিয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং গত ১৯জুলাই পান্নাকে নিয়ে বাবুল অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।

তাকে খুঁজে না পেয়ে আমার ছেলে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। পরে পান্না তার ভুল বুঝতে পেরে আমার ছেলের সংসারে ফিরে আসে। সেটা বাবুল সহজে মেনে নিতে পারে নাই। এ নিয়ে বাবুল অনবরত পান্নাকে মেরে ফেলার হুমকি ধমক দিয়ে আসছিলো।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার ঘরের দক্ষিণে পুকুরের পাশে ডেকে নিয়ে পান্নাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়। পরে তার লাশ পুকুরে দেখতে পেয়ে আমরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ প্রকৃত খুনিকে গ্রেফতার না করে আমার নিরপরাধ ছেলেকে গ্রেফতার করে আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করছে।

আমার নাতি-নাতনির মা খুন হয়েছে আর বাবা কারাগারে। বর্তমানে তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে। আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমার নিরপরাধ ছেলেকে মামলা হতে অব্যাহতি দিয়ে প্রকৃত খুনিকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

নিহত গৃহবধূর বড় ছেলে শিশু আবির বলেন, সন্ধ্যার পর আমি পড়ার টেবিলে পড়ছিলাম। এ সময় আম্মুর মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। আম্মু মোবাইল রিসিভ করলে আমাদেরকে পাঁচ মিনিট পর আসি বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

আমি মোবাইলে বাবুলের কণ্ঠ শুনতে পাই। এর কিছুক্ষণ পর আম্মুর একটি চিৎকার শুনি। বাড়ীর লোকজনসহ আম্মুকে খোঁজতে গেলে পুকুর পাড়ে রক্ত দেখতে পাই। পরে আম্মুকে খোঁজা-খোঁজির পর পুকুরে লাশ পায়।

গৃহবধূ হত্যা মামলার বাদী জাফর উল্যাহ বলেছেন, আমার জামাই নির্দোষ। আমি তাকে আসামী করি নাই। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত খুনির বিচার চাই। এ ছাড়াও চরপার্বতী ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা প্রকৃত দোষী তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক যেন শাস্তি হয় এবং যাতে করে এ শাস্তি দেখে সমাজে এ ধরণের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এ ঘটনায় নিরপরাধ কোনও ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়।

 

ভুলুয়াবিডি/এএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন।